২১ জুন ২০২৬

পরিবহন সংকটে নজরুলের শিক্ষার্থীরা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
পরিবহন সংকটে নজরুলের শিক্ষার্থীরা

আজিজুল হাকিম (পাভেল), জাককানইবি থেকে : সকাল ৮টা বেজে ৫ মিনিট, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগের ছাত্রী রূপা ধর দাঁড়িয়ে আছেন ময়মনসিংহ শহরের বাউন্ডারি রোডের মাথায়, অপেক্ষা করছেন ‘সাম্যবাদী’র জন্য। ‘সাম্যবাদী’ তার কোন বান্ধবী বা কেউ নয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস।

ময়মনসিংহ টাউন হল মোড় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলাচলকারী এ বাসটি নির্দিষ্ট সময়েই এসে দাঁড়াল। ছুটে গেলেন রূপা, ধাক্কাধাক্কি করে কোনোভাবে নিজেকে দরজা পর্যন্ত ঠেসে ঢোকালেন। কাঁধে ব্যাগসমেত এক হাতে বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলতে ঝুলতে তাকে যেতে হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস অবধি। শুধু রূপা নয়, তার মতো অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বাসের দরজায় ঝুলে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাত হাজারেরও অধিক। শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র ২টি আবাসিক হল। আবাসিক হল পর্যাপ্ত না থাকায় শিক্ষার্থীদের থাকতে হয় স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন মেস এবং ময়মনসিংহ শহরের মেস ও হোস্টেলে। শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশ ময়মনসিংহ শহর থেকে যাতায়াত করে। তাই নির্ভর করতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার উপর। ক্যাম্পাসে আনা-নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক নিজস্ব বাস না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাসেরও ব্যবস্থা করেছে। পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থী রূপা ধর বলেন, ক্যাম্পাসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সকল বাস ছাড়ে টাউন হল মোড় থেকে। বাস তো ওখানেই ভরে যায়। বাউন্ডারি রোড থেকে সিট পাওয়া যায় না বলে আমি অনেক সময় রিকশা ভাড়া করে টাউন হল মোড়ে চলে যাই, তবে সব দিন সম্ভব হয় না। বাসা থেকে বেরোতে দেরি হলে সেখানে যাওয়া আর সম্ভব হয় না। তখন বাদুড়ঝোলা হয়ে ভার্সিটিতে আসি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন কার্যালয় জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৩টি বিভাগের বিপরীতে শিক্ষার্থী সংখ্যা সাত হাজারের অধিক, যার বড় একটি অংশ থাকে ময়মনসিংহ শহরে। বিশ্ববিদালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত বাসের সংখ্যা মাত্র ১০টি। এর মধ্যে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আর বাকি ছয়টি ভাড়া করা। বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় দূরের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়। বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে বাসের ভেতর গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে কিংবা দরজায় ঝুলে ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।

ভিড়ের কারণে শিক্ষার্থীদের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। কেউ কেউ লোকাল বাসে যাতায়াত করে। বাস বাড়ানোর দাবিতে গত ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসকের অফিসে তালা লাগিয়ে আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী শাহীনূর রহমান শিমূল বলেন, আমাদের পরিবহণ প্রশাসন আমাদের সাথে বাচ্চাসুলভ আচরণে মত্ত। বাচ্চাদের যেমন চকলেট দেখিয়ে স্কুলে নেওয়া হয় আমাদের পরিবহণ প্রশাসন ও আমাদের আশ্বাস দেয় বাবা আরেকটা দিন স্পাইডার ম্যানের মতো ঝুলে ঝুলে আসো তারপর একটা সাকুরা লজেন্স দিবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক রাশেদ সুখন বলেন, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে বাস বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, অতি দ্রুত শিক্ষার্থীদের পরিবহন সমস্যার সমাধান হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য আগামী মাসে নতুন একটি বাস কেনা হবে। এ ছাড়া আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আরো দুটি বাস পাব।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭ তম জন্মজয়ন্তী ও জাতীয় শিশু দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এম.পি। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের দাবীর প্রেক্ষিতে বাস উপহার দিবেন বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। তবে প্রায় তিন বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি মন্ত্রীর দেয়া আশ্বাস।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি