প্রধানমন্ত্রীর সামনেই মঞ্চস্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের নাটক 'জীবন্ত কবর'
বাংলা প্রেস
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
নোমান সাবিত: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনেই মঞ্চস্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নাটক 'জীবন্ত কবর'। তিনি মঞ্চে বসেই সরাসরি উপভোগ করলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের লীগের নাটক 'জীবন্ত কবর'। গত ২২ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্ক ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলের মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় 'যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগের জীবন্ত কবর' নাটক। হবিগঞ্জের কুখ্যাত রাজাকারের সন্তান ইমদাদুর রহমান চৌধুরী প্রযোজিত এবং দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মো. আবদুস সোবহান মিয়া (গোলাপ) পরিচালিত উক্ত নাটক সরাসরি মঞ্চে বসে উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী। মোটা অংকের বাজেটের উক্ত নাটকের বেশির ভাগ অর্থ প্রযোজকের মাধ্যমে পরিচালকের পকেটে গেছে বলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝে চলছে নানা গুঞ্জন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২২ সেপ্টেম্বর ১৯তম বারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের ৩/৪ সপ্তাহ আগে থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি অধুষ্যিত অঙ্গরাজ্যগুলো প্রায় একমাস ধরে মুখরিত থাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নাগরিক সংবর্ধনা দিতে ৩/৪ মাস ধরে চলে নানান প্রস্তুতি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা জন্য নিউ ইয়র্কের বিলাশ বহুল হোটেলের মিলনায়তন ভাড়া এবং আনুসাঙ্গিক খরচ বাবদ মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করা হয় দলের কন্দ্রিয় তহবিল থেকে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চের চেয়ারে বসার জন্য চেয়ার বাণিজ্য করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন নেতাকর্মী। ২০১৮ সাল থেকে বন্ধ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চে বসার চেয়ার বাণিজ্য। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনায় মঞ্চে শুধু তিনি একাই বসেছিলেন। কোভিড-১৯ এর ফলে গত ৩ বছর (২০২০-২২) ভাটা পড়ে যায় রমরমা চেয়ার বাণিজ্যে। কারণ প্রধানমন্ত্রী ৩ বছর সরাসরি মঞ্চে আসেননি। নাগরিক সংবর্ধনায় তিনি বক্তব্য দিয়েছেন ভার্চুয়াল। বিশাল বড় রঙ্গীন পর্দায় তাঁর বক্তব্য শুনেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী।
চলতি বছরে (২০২৩) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে একমাস ধিরে চলে নানা মহড়া। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দু'ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে চলছে টানা-হেঁচড়া। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামীলীগ ও নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের মাঝে চলে তীব্র প্রতিযোগিতা। প্রধানমন্ত্রী বা কেন্দ্রীয় নির্দেশ কার হাতে তা প্রকাশ না করায় ধুম্রতা দেখা দেয়। উভয় পক্ষ পৃথক পৃথক ভাবে নাগরিক সংবর্ধনার পোষ্টার ছাপিয়ে প্রচারণা চালানো। এর ফলে চরম দ্বিধা দ্বন্দে পড়েছে সাধারন কর্মীসহ প্রবাসীরা।
দীর্ঘদিনে দেশে অবস্থানের পর নিউ ইয়র্কে ফিরে আসেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। নিউ ইয়র্কের পৌঁছেই বেশ কয়েকটি সভা সমাবেশ করেন তিনি। এসব সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগকে দেওয়া কোন নির্দেশনা রয়েছে কিনা তা তিনি পরিস্কার করে বলতে পারেননি।
সিদ্দিকুর রহমান বরাবরেই তার নিজের ফেসবুকে প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে থাকেন। সেখানে তিনি নানা ঘোষনা দেন। ফেসবুক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক। কিন্তু তা মানতে পারেনি নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগ। সিদ্দিকুর রহমান দেশে অবস্থানকালে মহানগর আওয়ামীলীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার ঘোষনা দিয়ে পোষ্টার ছাপেন এবং তা প্রচার করেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) জ্যাকসন হাইটসের এক রেস্তোঁরায় সংবাদ সম্মেলনে ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারন সম্পাদক আব্দুস ছামাদ আজাদ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনার একমাত্র আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ। প্রায় এক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ তাই করে আসছে। অন্য কোন অঙ্গসংগঠন বা গোষ্ঠির এ ধরনের আয়োজন গ্রহণ করা কোন এখতিয়ার নেই।
এদিকে, একই দিন সন্ধ্যায় র্যালী শেষে নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ডা মাসুদুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে নির্দেশনা রয়েছে নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগকে এবার নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজক। তা মেনে নিয়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান তিনি। একই ধরনের মতামত প্রকাশ করেন নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক ও সাধারন সম্পাদক ইমদাদুর রহমান চৌধুরী (ইমদাদ)।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনাকে ঘিরে আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে যে তীব্র লড়াই চলে এর প্রভাব পড়ে সাধারনকর্মীদের ওপর। তারা নানা বিভ্রান্তিতে পড়ে। তখন নেতাকর্মীদের মাঝে চরম উত্তেজনাও বিরাজ করে।
প্রধানমন্ত্রী এবং দলের সভানেত্রীর উপস্থিতিতেই গত ২২ সেপ্টেম্বর উক্ত সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী। যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ দর্শকের ভূমিকা পালন করে। কিছুটা ধর্ণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ মঞ্চে বসার সুযোগ পেয়েছিলেন। তা প্রধানমন্ত্রীর আসন থেকে অনেক দূরে। নাগরিক সংবর্ধনাটি পরিচালনা করেছেন নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও হবিগঞ্জ জেলা জেলার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী শাহজাহান চৌধুরী ওরফে টেনু মিয়ার ছেলে ইমদাদুর রহমান চৌধুরী ইমদাদ। তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মো. আবদুস সোবহান মিয়া (গোলাপ)। অসহায় হয়ে মঞ্চে বসে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আব্দুস ছামাদ আজাদ ও নিউ ইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো দলের সভানেত্রীর সামনেই দলের সংবিধান লঙ্ঘন করে সভাপতির উপস্থিতিতেই সংবর্ধনা সভার সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাগরিক সংবর্ধনাকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র দীর্ঘদিনে। অর্থ ভাগাভাগি আর দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের আশায় সবাই পদ পদবির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। প্রায় প্রতিবছরই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন আব্দুস সোবহান গোলাপ। তিনিই আগে এসে সবার সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার চেষ্টা করতেন। কিন্তু ফলাফল ছিল শূন্য। তারপরই তাকে কেন বারবার সমঝোতার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ বিষয়টি কারই বোধগম্য নয়। তার কারণে গত কয়েক বছরে নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে। গত বছর ম্যানহাটনের একটি হোটেল লবিতে একজন আওয়ামী লীগ কর্মী প্রকাশ্যেই আব্দুস সোবহান গোলাপকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করেন। পরে উক্ত কর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঙ্গসংগঠনের কিছু কর্মীকে বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বিভক্ত গ্রুপের নেতৃত্বে একাংশে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদের নেতৃত্বাধীন অংশ। আরেক অংশের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, আওয়ামী লীগ নেতা কাজী কয়েস, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম বাদশা, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং চন্দন দত্তসহ অনেকে। এবার কিন্তু তাদের বিরোধ করতে দেখা যায়নি। উভয় গ্রুপের বিভক্তির কারণে প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা ২০১৮ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছিনতাই হয়ে যায়। বিরোধের কারণে ওই সময় নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে নো মোর সিদ্দিক, নো মোর সিদ্দিক বলে স্লোগান দেওয়া হয়। সেই স্লোগান দেখে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং বিরক্ত হয়েছিলেন। নিজেই নাগরিক সংবর্ধনার সভাপতিত্ব করেন এবং সরকারি আমলারা অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হাসিব মামুন ও সাধারন কর্মী আব্দুল আহাদ তাদের ফেসবুক পোষ্টে লিখেন-যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমানে মূল সমস্যা কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বেই মনে হচ্ছে। প্রায় বিগত ৪/৫ বৎসর থেকে উনাকে (ড সিদ্দিকুর রহমান) বাদ দিয়ে কখনো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী আবার কখনো সহ-সভাপতিকে দিয়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করানো হচ্ছে। সভাপতি থাকার পরেও সহ-সভাপতিকে দিয়ে সভাপতিত্ব করানো যে কতটুকু অপমানজনক এটা নিশ্চয়ই উনি উপলব্ধি করতে পারতেছেন। কিন্তু চামচাদের কারনে তিনি সেই অপমান সহ্য করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে অনুষ্ঠান অথচ মহানগরের সভাপতি সভাপতিত্ব না করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সভাপতিত্ব করলেন এটা কিসের আলামত সেটি নিশ্চয় উনি বুঝতে পেরেছেন। এর ফলে গোটা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হচ্ছে, অথচ এর সুবিধা নিচ্ছে কিছু মধ্যম সারির নেতাকর্মী (কয়েকজন বাদে), যারা সারা বছর ঘরে বসে থাকে আর নেত্রী আসলে ঘর থেকে বের হয়। এ রকম পরিস্হিতিতে উনার (আব্দুস সোবহান গোলাপ)এর উচিত ছিলো নেত্রীকে বলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মেলনের ব্যবস্হা করতে অনুরোধ করা এবং নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া। কিন্তু উনি তা না করে পুরো দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। উনার এই দুর্বলতার কারনে আমরা দেখলাম কাজি কয়েস, মোহাম্মদ আলী গং এরা সাড়া বৎসর একদিন ও যুক্তরাষ্ট্রের কোন সভা সমাবেশে উপস্হিত হন না অথচ ঐ দিন বক্তব্য দেওয়ার জন্য ঝগডায় লিপ্ত হলেন দুজনই। অথচ আব্দুল হাসিব মামুন ভাইদের মত অনেকে সাড়া বৎসর দলের জন্য কাজ করে ও বক্তব্য কিংবা সামনের সারিতে বসার জন্য কোন ঝগড়া বিবাদে জড়ান না। অথচ নেত্রী আসলে সুবিধাবাদীরাই সকল সুবিধা নিয়ে নিচ্ছে এই হলো বর্তমান অবস্হা। এই ভাবে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ দীর্ঘদিন চলতে পারে না বলে আমরা মনে করি। অচিরেই এর সমাধান হওয়া দরকার এবং একমাত্র নেত্রীই পারবেন দলকে ভালো অবস্হানে ফিরিয়ে নিতে।আমরা নেত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলাম।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির নামে চলছে পাইকারি হারে চাঁদাবাজি:
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৮তম অধিবেশনে যোগদানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে আগমনকে কেন্দ্র করে এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটির পদ-পদবির লোভ দেখিয়ে দলের অভ্যন্তরে চলছে পাইকারি হারে চাঁদাবাজি। দলের প্রবাসী সাধারন কর্মীদের বিভিন্ন পদ দেবার নাম করে তাদেরকে ফাঁদে ফেলে নগদ অর্থের লেনদেন এখন ওপেন সিক্রেট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও সংসদ সদস্য মো. আবদুস সোবহান মিয়া (গোলাপ) ও তার যুক্তরাষ্ট্রে নিয়োজিত প্রতিনিধির মাধ্যমে পাইকারি হারে চাঁদাবাজির খবর দলের তৃণমুলের কর্মীসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতারা জানলেও কেউ তার বিরুদ্ধে ‘টু শব্দ করতে পারছেন না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বহু বাড়ির মালিক যা নিজের ও স্ত্রী-সন্তানের নামে রয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, নিউ ইয়র্ক ছাড়াও ওয়াশিংটন ডিসি ও ফ্লোরিডাতেও বেনামে তার অনেকগুলো বাড়ি ও সম্পত্তি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি এমন কোন জায়গা নেই যে তিনি চাঁদাবাজি করেননি। আগামী নির্বাচনে তার ফান্ডের দরকার বলে দলের প্রবাসী কর্মীদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার চাঁদা নিচ্ছেন। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা তার এই চাঁদাবাজির মূল এজেন্ট হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। এছাড়াও আরো অনেক সাব এজেন্ট রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা সংগ্রহ করছেন চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা বলেছেন আমরা গোলাপের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছি। গোলাপ বাংলাদেশের যেভাবে চাঁদাবাজি করছেন ঠিক তেমনিভাবে প্রবাসেও দলের নিরীহ নেতা কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছেন যা দীর্ঘদিন ধরে দল এবং প্রধানমন্ত্রীর সুনামকে চরমভাবে ক্ষুন্ন করেছে।
আবদুস সোবহান মিয়া (গোলাপ) সাম্প্রতি অর্থ পাচার সংক্রান্ত মামলায় ঢাকা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগ নেতা ও নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা নির্মাণ ব্যবসায়ী আবুল কাশেম ওরফে একাশি কাশেমের সাথে যোগসাজস করে ব্রুকলিনের জনৈক আওয়ামী লীগ কর্মীকে যুক্তরাষ্ট্রের আওয়ামী লীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে তার কাছে থেকে মোটা অঙ্কের নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উক্ত অর্থ তারা দু’জনে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য মো. আবদুস সোবহান মিয়া (গোলাপ) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ৪০ লাখ ডলার ব্যয়ে একাধিক বাড়ি ক্রয়ের দেশের বাইরে এমন সম্পদ তাঁর রয়েছে বলে নির্বাচনী হলফনামায়ও উল্লেখ করেননি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক ‘অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট’ বা ওসিসিআরপি চলতি সালের ১৩ জানুয়ারি শুক্রবার তাদের ওয়েবসাইটে করা একটি প্রতিবেদনে আব্দুস সোবহান গোলাপের যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয় করা নিয়ে সংবাদ করেছে।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
প্রবাস
ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকান্ডের হালনাগাদ ‘ভয়াবহ’ তথ্য
১ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
প্রবাস
নিউ ইয়র্কে শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে জামাইকা মসজিদের ইমাম গ্রেপ্তার
৩ দিন আগে
by বাংলা প্রেস
প্রবাস
ফ্লোরিডা ট্র্যাজেডি: নিহত লিমন নিখোঁজ বৃষ্টিকে বিয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন
১ সপ্তাহ আগে
by বাংলা প্রেস
প্রবাস
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শোকের ছায়া
১ সপ্তাহ আগে
by বাংলা প্রেস
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি