
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বরিশালের হিজলা উপজেলার ২নং মেমনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য পদের ঘোষিত নির্বাচনি ফলাফল বাতিল চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে যুগ্ম জেলা জজ তৃতীয় আদালতে ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী আঃ লতিফ মৃধা মামলাটি দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ ইফতেখারুল ইসলাম মামলাটির আদেশ দানে পরবর্তী দিন ধার্যের নির্দেশ দেন।
মামলায় অভিযুক্ত অন্যান্যরা হলেন বিজয়ী ইউপি সদস্য মনির হোসেন চৌকিদার, অপর প্রার্থী দুলাল হোসেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব ও সহকারী সচিব, বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রিটার্নিং অফিসার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, মেমানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব।
মামলা পরিচালনাকারী আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, গত ২১ জুন হিজলার ২নং মেমানিয়া ইউপির ৩নং ওয়ার্ড সদস্য পদে মনির হোসেন চৌকিদার ফুটবল প্রতীক, দুলাল হোসেন টিউবওয়েল প্রতীক ও আঃ লতিফ মৃধা মোরগ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। প্রার্থীদের মধ্যে মনির হোসেন চৌকিদারের জনসমর্থন না থাকলেও অর্থশালী ও প্রভাবশালী হওয়ায় সে কৌশলে নির্বাচনে জয়ী হতে রিটার্নিং অফিসারকে বেআইনি ও অবৈধ উপায়ে ম্যানেজ করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৭ জুন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দিয়ে আবুল ঢালীর বাড়ির মল্লিক ই এবতাদায়ী মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসাবে উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ আল আমিনকে নিয়োগ দেন। এতে আঃ লতিফ মৃধা আপত্তি জানালে ১৯ জুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসাবে মহিষখোলা ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক কামাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু, ২০ জুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসাবে পুনরায় উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ আল আমিনকে বহাল করা হয়।
ফলে নির্বাচনের দিন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পুনরায় উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সৈয়দ আল আমিন প্রকাশ্যে তার প্রশাসনিক ও একদলভূক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে ফুটবল প্রতীকের মনির হোসেন চৌকিদারের পক্ষে কাজ করেন। তারা অন্যান্য প্রার্থীদের এজেন্টদের মারধর করাসহ তাদের কেন্দ্র দিয়ে তাড়িয়ে দেন।
এ সময় মোরগ প্রতীকের আঃ লতিফ মৃধা প্রতিবাদ করলে তাকেও মারধর করে জখম করা হয়। পরে ফুটবল প্রতীকে সীল দিয়ে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে। আঃ লতিফ মৃধা ফের প্রতিবাদ করলে ২ ঘন্টার জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু আঃ লতিফ মৃধা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ২ ঘন্টা পর পুনরায় জনশূন্য কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু করে একতরফাভাবে অন্যান্য প্রার্থীদের অনুপস্থিতিতে ফুটবল প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
এ ঘটনায় আঃ লতিফ মৃধার ছেলে সোহাগ মৃধা নির্বাচনের সকল অনিয়ম উল্লেখ করে হিজলা থানায় মামলা দায়ের করে। আঃ লতিফ মৃধার অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি শের-ই-বাংলা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ ঘটনায় পক্ষপাতিত্ব ও বে-আইনিভাবে ঘোষিত নির্বাচনি ফলাফল বাতিল ও আঃ লতিফ মৃধাকে নির্বাচিত ঘোষণা করার প্রতিকার চেয়ে মামলাটি দায়ের করেন লতিফ মৃধা। সূত্র:ডিবিসি টিভি।
বিপি/আর এল
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]