পেন্টাগনের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ
নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) সাংবাদিকদের জন্য তাদের প্রেস অফিসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে এবং ওই এলাকাকে একটি শ্রেণিবদ্ধ নিরাপত্তা স্থাপনা (এসসিআইএফ) হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর ফলে বহু বছর ধরে সাংবাদিকরা যে অফিসে অবাধে প্রবেশ করে তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন, সেই সুযোগ আর থাকছে না।
পেন্টাগনের জনসংযোগ দপ্তর যেখানে সাংবাদিকরা সামরিক জনসংযোগ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারতেন এবং প্রশ্ন করতে পারতেন, সেটিকে এখন সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি (এসসিআইএফ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত পেন্টাগন প্রেস সেক্রেটারি জোয়েল ভালদেজ বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ-এর দপ্তরের বক্তৃতা লেখকরা ওই স্থান ব্যবহার করেন এবং তারা নিয়মিতভাবে গোপন নথি নিয়ে কাজ করেন বলেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভালদেজ এক বিবৃতিতে বলেন, বক্তৃতা লেখকরা নিয়মিত শ্রেণিবদ্ধ তথ্য নিয়ে কাজ করেন এবং তাদের সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক (সিপিরনেট) ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। ফলে সাংবাদিকদের আর ওই অফিস এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। জনসংযোগ বিষয়ক সহকারী সচিব এবং প্রেস সেক্রেটারির অফিসে শুধুমাত্র পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে প্রবেশ করা যাবে।
সিক্রেট ইন্টারনেট প্রোটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক (সিপিরনেট) হলো পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্যবহৃত একটি নিরাপদ নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে শ্রেণিবদ্ধ তথ্য আদান-প্রদান করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সাংবাদিকদের জন্য পেন্টাগনে প্রবেশাধিকারে একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। হেগসেথ অধিকাংশ স্থাপনায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার বাতিল করেছেন। যদিও এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জে আদালত বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, তবুও পেন্টাগন বিধিনিষেধ আরও বাড়িয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে সাংবাদিকরা পেন্টাগনে পুনরায় প্রবেশাধিকার পেলেও প্রতিরক্ষা দপ্তরের গণমাধ্যম বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত হতে পারে। প্রথম এই খবর প্রকাশ করে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
এর আগে সাংবাদিকরা পেন্টাগনের উন্মুক্ত এলাকায় প্রবেশ করে বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে এবং তথ্যসূত্রের সঙ্গে কথা বলতে পারতেন।
গত অক্টোবর মাসে শত শত সাংবাদিক নতুন প্রেস নীতিতে স্বাক্ষর না করে তাদের পেন্টাগন প্রেস পাস জমা দেন। নতুন নীতিতে সাংবাদিকদের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছিল যে, তারা অনুমোদনহীন কোনো তথ্য সংগ্রহ বা অনুরোধ করবেন না তথ্যটি শ্রেণিবদ্ধ না হলেও। অন্যথায় তাদের স্বীকৃতি বাতিলের ঝুঁকি ছিল।
হেগসেথ ও তার দপ্তরের কর্মকর্তারা দাবি করেন, এই নীতি গোপন তথ্য ফাঁস রোধ করে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে। তবে সমালোচক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, এটি সাংবাদিকদের সংবিধান-প্রদত্ত প্রথম সংশোধনীর অধিকার লঙ্ঘন করে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করলে গত মার্চে এক ফেডারেল বিচারক তা বাতিল করে দেন। তবে প্রতিরক্ষা দপ্তর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে।
এছাড়া গত মাসে নিউইয়র্ক টাইমস সাংবাদিকদের পেন্টাগন প্রাঙ্গণে চলাচলের সময় বাধ্যতামূলকভাবে নিরাপত্তা এসকর্ট রাখার নিয়ম ঠেকাতে আরেকটি মামলা করে, দাবি করে যে এ ধরনের বিধিনিষেধ অসাংবিধানিক।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
নিউ ইয়র্কের পাতাল ট্রেন স্টেশনের বাইরে গুলিতে দুই ব্যক্তি নিহত
সঙ্গীত একাডেমি