৬ মে ২০২৬

পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৩ এএম
পদত্যাগ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

 

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ দিনের মাথায় পদত্যাগপত্র জমা দিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।

রোববার সকালে তিনি শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে উপাচার্যের প্রটোকল অফিসার মোহাম্মদ ফিরোজ জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার সকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে তার মূল পদ উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফেরার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতি বরাবর আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।


“এসময় শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা, শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে উপাচার্যের মতামত জানতে চান এবং এক্ষেত্রে তার সহযোগিতা কামনা করেন।”

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বৃহত্তর শিক্ষাখাতের উন্নয়নে অব্যাহতভাবে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

“শিক্ষামন্ত্রী দেশের একটি ক্রান্তিকালীন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় উপাচার্যকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।”


এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মহোদয় সকালে তার অব্যাহতিপত্র জমা দিয়ে গেছেন। এটি গ্রহণ করা বা না করার এখতিয়ার মহামান্য রাষ্ট্রপতির।"

২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর পরিবর্তনের হাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদেও পরিবর্তন আসে। ওই বছর ২৭ অগাস্ট ভিসির দায়িত্ব পান ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান।

নির্বাচনের দুদিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছার কথা বলেছিলেন তিনি।

অধ্যাপক নিয়াজ সেদিন বলেছিলেন, “আমি এখন মনে করছি যে, এটি একটি দায়িত্ব পালনের পর্বে আমরা একটি ভালো পর্যায়ে এসেছি এবং আমি সরে দাঁড়াতে চাই।”

তবে এও বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষায় যেন কোনো অসুবিধা না হয়, সেজন্য ‘সরকার চাইলে’ আরো কিছুদিন দায়িত্ব চালিয়ে যেতে তার আপত্তি নেই।

১৯৬৬ সালে জন্মগ্রহণ করা নিয়াজ আহমদ খান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর ইন্সটিটিউট অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট থেকে মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা করেন।

১৯৯৬ সালে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, সোয়ানসি থেকে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিষয়ে পিএইচডি করেন তিনি। পরে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস, থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি এবং অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনটি পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি নেন।

এক সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক নিয়াজ ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপ উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্বও পালন করেছেন।

ইউএনডিপি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) বিভিন্ন পদে চাকরি করার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘ, বিশ্ব ব্যাংক, ইউএসএআইডি এবং বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।


বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি