৪ মে ২০২৬

পারিবারিক কলহ: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রকৌশলী সাজ্জাদের আত্মহত্যা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪১ পিএম
পারিবারিক কলহ: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রকৌশলী সাজ্জাদের আত্মহত্যা
নিজস্ব প্রতিবেদক: পারিবারিক অশান্তির কারণেই আত্মহত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হাসান (৪২)। গত ১৭ জানুয়ারি জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জনসক্রিক এলাকা নিজ গাড়ির ভেতর থেকে গুনেইট কাউন্টি পুলিশ বাংলাদেশি প্রকৌশলীর লাশ উদ্ধার করেছিল। ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ জানিয়েছে প্রকৌশলী সাজ্জাদ হাসান (৪২) আত্মহত্যা করেছে। গাড়ির ভিতরে সে নিজেকেই নিজে গুলি করেছেন। গত ১৭ জানুয়ারি ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে জর্জিয়ার গুনেইট কাউন্টি পুলিশ তার বাড়ি থেকে অন্তত ২৫ মাইল দূরবর্তী জনসক্রিক নামক এলাকায় তার নিজের গাড়ির মধ্যে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। তার মৃত্যু নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। পারিবারিক অশান্তির কারণেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে স্থানীয় প্রবসীদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন। প্রকৌশলী সাজ্জাদ গুলি চালিয়ে কেন আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন সে নিয়ে বংলাদেশি কমিউনিটিতে চলছে নানা গুঞ্জন। এসব প্রশ্নের কোন উত্তর খুঁজে পায়নি পুলিশ। এমনকি স্ত্রী কোনো অভিযোগ না করায় পুলিশও বিষয়টিকে আপাতত আত্মহত্যা বলছে। কিন্তু প্রতিবেশী এবং সেখানকার কমিউনিটির লোকেরা এই মৃত্যু নিয়ে নানান সন্দেহ করছেন। প্রতিষ্ঠিত একজন প্রকৌশলী কী কারণে আত্মহত্যা করবেন তা নিয়ে নানান প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে কথিত সুইসাইডাল নোট নিয়েও সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের। সাজ্জাদের পিঠের নিচে কোমরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পুলিশ লাশের পাশে একটি চিরকুট পায়, যেখানে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য আমার স্ত্রী বা অন্য কেউ দায়ী নয়।’ অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন কেন আত্মহত্যা করবেন? কেউ নিজের পেছনে কোমরে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে কী না? এই দুটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই সৃষ্টি হয়েছে রহস্যের। প্রশ্ন হচ্ছে-প্রকৌশলী সাজ্জাদ হাসান জর্জিয়া পাওয়ার কোম্পানির ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। মোটা বেতনের চাকরি। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি স্বচ্ছল ও সফল। স্ত্রী, এক ও ছেলে এক মেয়ে নিয়ে জর্জিয়ার টাকার শহরে বসবাস করতেন। কিছু দিন আগে বাংলাদেশ থেকে বাবা-মা বেড়াতে এসেছেন। সব মিলিয়ে সুখী জীবন ছিল তার। এমন কী হলো যে গুলি চালিয়ে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিলেন? সাজ্জাদ হোসেনের প্রতিবেশী এবং একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, স্ত্রীর সাম্প্রতিক আচরণে প্রকৌশলী সাজ্জাদের দাম্পত্য কলহ চলছিল। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরে ফোবানার একজন কর্মকর্তার সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না সাজ্জাদ। তাদের দাম্পত্য কলহ তীব্র আকার ধারণ করেছিল। কিন্তু এই কলহ মৃত্যুর দিকে ধাবিত করার মত বড় ঘটনা ছিল না। তবে মানসিক যন্ত্রণার কথা বাবা-মায়ের সঙ্গে শেয়ার করেছেন সাজ্জাদ। অন্যদিকে পিঠের নিচে কোমরে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হওয়ায় অনেকে এটিকে আত্মহত্যা বলতে চাচ্ছেন না। কারণ নিজের শরীরের পেছনে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা নজিরবিহীন। নিজের স্ত্রীর সঙ্গে কলহ, অথচ তাকেই তিনি চিরকুট লিখে দায়মুক্ত করে গেছেন। চিরকুটে হাতের লেখা যে সাজ্জাদের তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোর করে কেউ চিরকুট লিখতে বাধ্য করেছে কীনা এসব বিষয় তদন্তের দাবি রাখে। আরো একটি প্রশ্ন জোরেশোরে সামনে এসেছে, প্রকৌশলী সাজ্জাদ যদি আত্মহত্যাই করবেন তাহলে বাড়ি থেকে ২৫ মাইল দূরে কেন গেলেন? জানা গেছে, ১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বাসা থেকে গাড়ি চালিয়ে বেরিয়ে যান প্রকৌশলী সাজ্জাদ। তিনি কোথায় যাচ্ছেন তা কী কাউকে বলে গেছেন? স্ত্রীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে অবশ্যই তাকে বলে যাওয়ার কথা। কিন্তু স্ত্রী এখন দাবি করছেন, সাজ্জাদ আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশকে সেই বর্ণনাই দিয়েছেন সাজ্জাদের স্ত্রী। বরং অন্য কোনো সন্দেহ না করায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই মৃত্যুর ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে জানিয়েছে। তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সাজ্জাদের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। বাংলাদেশের ঢাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হাসান জর্জিয়া পাওয়ার কোম্পানির ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, পরিবার নিয়ে জর্জিয়ার ট্যাকার শহরে বসবাস করতেন। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়ে রেখে গেছেন। সাজ্জাদের অকাল মৃত্যুতে জর্জিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। গত ১৯ জানুয়ারি নামাজে জানাজা শেষে স্থানীয় মুসলিম গোরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি তার কুলখানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি