৪ মে ২০২৬

অভিনেতা অপূর্ব'র ছোট ভাই দীপু'র আত্মহত্যা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
অভিনেতা অপূর্ব'র ছোট ভাই দীপু'র আত্মহত্যা

বিনোদন প্রতিবেদক, ঢাকা : গতকাল রাতে দীপু ফেসবুক লাইভে এসেছিল। কিছুই বলেনি। ক্যামেরার সামনে চুপ করে দাঁড়িয়েছিল। এরপর ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। মনে হচ্ছে, এরপরই ঘটনাটা ঘটেছে। ছোট পর্দার জনপ্রিয় নায়ক জিয়াউল ফারুক অপূর্ব তাঁর ছোট ভাই জাহেদুল ফারুক দীপু (৩৫) আত্মহত্যা করেছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দীপুর লাশ উদ্ধার করেছে আদাবর থানার পুলিশ। এই ভাড়া বাসায় স্ত্রী ডলি আর সাড়ে চার বছর বয়সী ছেলে অংশকে নিয়ে থাকতেন দীপু। তিনি আইটি প্রতিষ্ঠান টমেটো ওয়েবে চাকরি করতেন পাশাপাশি গান গাইতেন, নাটক ও টেলিছবির আবহ সংগীত করতেন।

শেখেরটেকের ওই বাসায় নিজের একটি স্টুডিও ছিল দীপুর। সেখানেই তিনি গানের চর্চা এবং নাটক ও টেলিছবির আবহ সংগীতের কাজও করতেন। আজ সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থান মসজিদে দীপুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সেই কবরস্থানেই তাঁকে দাফন করা হয়। ভাইকে দাফন করে এসে অপূর্ব বলেন, ‘দীপুর সঙ্গে এবার রমজান মাসে একবার দেখা হয়েছিল। আমার বাসায় একসঙ্গে ইফতার করেছিলাম। ঈদের দিন কিংবা ঈদের পরে ও আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আসেনি। শুনেছি, গতকাল রাতে ও অনেকগুলো ঘুমের ওষুধ খেয়েছিল। এরপর নিজের স্টুডিওতে গিয়ে ঢোকে।’

অপূর্ব বলেন, ‘দীপু সাত বছর আগে বিয়ে করেছে। তখন থেকেই ও আলাদা থাকছে। ওর স্ত্রী এখন সাড়ে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আত্মহত্যার আগে দীপু একটি চিরকুট লিখে গেছে। তাতে লেখা ছিল, “আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। অংশ, আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি।” দীপুর মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য বিরাট ধাক্কা।’

তদন্তকারী কর্মকর্তা আদাবর থানার উপপরিদর্শক মতিউর রহমান জানান, দীপুর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অনেকক্ষণ দীপুর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রাত সাড়ে তিনটা নাগাদ ওই স্টুডিওর দরজা ভেঙে স্ত্রী তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পুলিশ গিয়ে ভোরে দীপুর লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য দীপুর মরদেহ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। দীপুর বাবা ওমর ফারুকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন, দীপু স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকত। অনেক দিন থেকেই সে হতাশায় ভুগছিল। জীবনে আশানুরূপ উন্নতি না করার কারণে তার মধ্যে এই হতাশা তৈরি হয়। ছেলের এই মানসিক সমস্যার কথা বাবা জানতেন।

চার ভাই আর এক বোনের মধ্যে দীপু সবার ছোট।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি