৪ মে ২০২৬

অসুস্থ হলেও খালেদা জিয়ার মনোবল শক্ত আছে: ফখরুল

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম
অসুস্থ হলেও খালেদা জিয়ার মনোবল শক্ত আছে: ফখরুল

বাংলাপ্রেস অনলাইন : শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মনোবল শক্ত আছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।কারাগারে খালেদার আরেকটি ঈদ ।খালেদার স্বাস্থ্য খারাপের দিকে।তিনি বলেছেন আন্দোলন চালিয়ে যেতে শনিবার পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করে এসে সাংবাদিকদের এ কথা জানান ফখরুল।

কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বিকাল ৪টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বেরিয়ে আসেন বিকাল ৫টার পরপরই।এক ঘণ্টার সাক্ষাৎ শেষে কারাফটকের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “ম্যাডাম শারীরিক দিক দিয়ে অসুস্থ আছেন, বেশ অসুস্থ। আমি আগে তাকে দেখেছি, তার চাইতে অবস্থা এখন ভালো নয়। আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি ব্যথায় খুব কষ্ট পাচ্ছেন।তবে ম্যাডামের মনোবল অত্যন্ত শক্ত আছে। উনি দেশবাসীকে মনোবল দৃঢ় রাখতে বলেছেন।”

জনগণের উদ্দেশ্যে তার কোনো বার্তা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে মির্জা ফখরুল বলেন, “দেশবাসীর উদ্দেশ্যে ম্যাডাম বলেছেন তারা যেন সজাগ থাকে, সচেতন থাকে। গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম চলছে সেই সংগ্রাম যেন অব্যাহত রাখে তারা।”দুপুরের দিকে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আবদুস সাত্তারের মাধ্যমে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাতের বিষয়টি জানানো হয়। এরপর মহাসচিব বিষয়টি নিয়ে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনা করেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশ ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পরামর্শক্রমের একাই সাক্ষাতের জন্য কারাগারে যান ফখরুল।

সাদা পায়জমা-পাঞ্জাবী পরে কারাগারে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব। জানা গেছে, প্রথমে তাকে কারাগারের ভেতরে অতিথিকক্ষে তাকে নিয়ে বসানো হয়।মির্জা ফখরুল জানান, দীর্ঘদিন পর প্রথম সাক্ষাতে অসুস্থ দলের চেয়ারপারসনকে দেখে আবেগপ্রবণ অবস্থায় সালাম ও কুশল বিনিময় করেন তিনি।আমি ম্যাডামকে এভাবে দেখব চিন্তাই করতে পারিনি। এটা আমার জন্য বেদনার। ঈদের দিন বাসার খাবারের প্রতীক্ষায় তিনি দীর্ঘ সময় কোনো খাবার খাননি। পরে আইজি প্রিজনের অনুরোধে সন্ধ্যায় খাবার খেয়েছেন।”

সাক্ষাতে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি আপনাদের (গণমাধ্যম) মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।”ফখরুল জানান, দলের চেয়ারপারসনের সঙ্গে তার সাক্ষাতের বিষয়টি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের জানাতে রাতে গুলশানের কার্যালয়ের বৈঠকে রয়েছে।সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান ও মহাসচিবের একান্ত সহকারি ইউনুস আলী উপস্থিত ছিলেন।গত ১৩ অগাস্ট স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে ঈদের দিন সাক্ষাতের জন্য ১৩ জন নেতার তালিকা দিয়ে চিঠি দিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল। কিন্তু ঈদের দিন তাদের সাক্ষাৎ মেলেনি।

বিএনপি মহাসচিব সর্বশেষ গত ৬ এপ্রিল কারাগারে খালেদা জিয়ার সাথে একা সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ৭ মার্চ ও ২৮ এপ্রিল দুই দফায় খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন।৮ ফেব্রয়ারি জিয়া এতিমখানা ট্রাষ্ট মামলায় সাজার পর থেকে খালেদা জিয়া পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দি রয়েছেন।ছয় মাসের বেশি সময় ধরে এই কারাগারে থাকা খালেদা এবার দ্বিতীয় ঈদ কাটালেন।

গত ২২ অগাস্ট ঈদের দিন দুপুরে খালেদা জিয়ার স্বজনরা বাসা থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে কারাগারে গিয়েছিলেন তার সঙ্গে দেখা করতে। বাসার খাবার ভেতরেও নিতে না দিলেও কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের মধ্যে থেকে ছয়জনকে দেখা করার সুযোগ দেয়।সেদিন খালেদার সঙ্গে দেখা করেন তার সেজ বোন সেলিনা ইসলাম, সেলিনার স্বামী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, ছোট ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার, তারেক রহমানের স্ত্রীর বড় বোন শাহিনা জামান বিন্দু ও প্রয়াত আরাফাত রহমানের স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং তার ছোট মেয়ে জাহিয়া রহমান।

স্বজনদের আগে বেলা ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে কারাগারের সামনে গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ বিএনপি নেতারা। কিন্তু ফটকে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের পথ আটকে দেয়।পুলিশের পক্ষ কারাগারে কারো সাক্ষাতের অনুমতির সংবাদ তাদের কাছে নেই জানানোর পর তারা সেখান থেকে চলে যান।

গত রোজার ঈদে কারা কর্তৃপক্ষ আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে মোট ২১ জনকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দিলেও তখন বিএনপি নেতাদের সে সুযোগ হয়নি।দুর্নীতি ছাড়াও রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালনের মত অভিযোগে মোট ৩৪টি মামলা রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে।এর মধ্যে ৩১টিতে জামিন পেলেও বাকি তিনটিতে না হওয়া পর্যন্ত খালেদার কারামুক্তি ঘটছে না বলে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

এর আগে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের পর সংসদ ভবনে স্থাপিত উপ-কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল। সেখানেও তার কাটাতে হয়েছিল দুটি ঈদ

বাংলাপ্রেস/এফএস

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি