৪ মে ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাইছেন ইরানের নারী ফুটবলাররা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চাইছেন ইরানের নারী ফুটবলাররা

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   মাঠে লড়াই চলছে এশিয়ান কাপের শ্রেষ্ঠত্বের, কিন্তু মাঠের বাইরে এখন ইরানের নারী জাতীয় ফুটবল দলের সদস্যদের জীবন নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়। গত ২ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত না গেয়ে নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন খেলোয়াড়রা। এই ঘটনার পর ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের কড়া সমালোচনার মুখে পড়েছেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের কট্টরপন্থী ধারাভাষ্যকার মোহাম্মদ রেজা শাহবাজি দলের খেলোয়াড়দের ‘জাতীয় বেইমান’ এবং ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই খেলোয়াড়দের সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর আচরণ করা উচিত।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) গোল্ড কোস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইরানি খেলোয়াড়রা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন এবং স্যালুট দিয়েছেন—যা সোমবারের আচরণের সম্পূর্ণ বিপরীত। ধারণা করা হচ্ছে, দেশে থাকা পরিবারের নিরাপত্তা বা সরকারি চাপের কারণেই তারা এই অবস্থান বদলে বাধ্য হয়েছেন।

এদিকে জার্মান ভিত্তিক ইরানি সাংবাদিক আলী বোরনাই অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন, ‘‘ইরানে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ একটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। এই অ্যাথলেটরা যদি দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হয়, তবে তারা নির্বিচারে আটক এবং এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে পারে।’’

অস্ট্রেলিয়ার রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী পল পাওয়ার বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে ইরানে অতীতেও অনেককে চরম পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।  তথ্য অনুযায়ী, এই নারী ফুটবলাররা দেশে ফিরলে নিশ্চিতভাবেই ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের অবস্থান

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওয়াং এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়া নিপীড়নের বিরুদ্ধে ইরানের সাহসী মানুষের পাশে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা ইরান সরকারকে তাদের নিজস্ব জনগণকে রক্ষা করার এবং কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই মত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়ার আহ্বান জানাই।’

তবে মানবিক ভিসা বা আশ্রয়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পল পাওয়ারের মতে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কেউ ব্যক্তিগতভাবে আশ্রয়ের আবেদন না করলে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি পদক্ষেপ নিতে পারে না। তাই সিদ্ধান্তটি এখন সম্পূর্ণ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করছে।

রোববার (৮ মার্চ) ফিলিপাইনের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে ইরান। এই ম্যাচ শেষেই তাদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তবে বড় ব্যবধানে জিতলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ পাবেন, যা তাদের অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সময়কে আরও কিছুটা দীর্ঘায়িত করতে পারে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান 

বিপি>টিডি
 

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি