৪ মে ২০২৬

অরণ্যের অগ্নিশিখা 'পলাশ' ফুল!

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
অরণ্যের অগ্নিশিখা 'পলাশ' ফুল!

জবি থেকে সংবাদদাতা: পলাশ ফুটলেই বোঝা যায় ফাগুনে বনে আগুন লেগেছে। টিয়া পাখির ঠোঁটের সঙ্গে পলাশ ফুলের দারুণ মিল। আর একই কারণে পলাশের প্রচলিত ইংরেজি নাম ‘প্যারোট ট্রি’। আবার পলাশ দেখতে অনেকটা বক ফুলের মতো। সবকিছু মিলিয়ে পলাশ ফুল অসাধারণ। কিন্তু ফুলে নেই গন্ধ !

পলাশ ফুলকে অরণ্যের অগ্নিশিখা বলা হয়ে থাকে । শীত আসলেই সব পাতা ঝরে গিয়ে গাছটি একেবারে ন্যাড়া হয়ে যায়। কিন্তু বসন্তকাল আসতে না আসতেই গাছটি গাঢ় লাল রঙের ফুলে ভরে ওঠে। পাতা জন্মানোর আগে, যখন কেবল ফুল ফুটতে শুরু করে, তখন পলাশ গাছ একদম লাল হয়ে যায়। যেনো বনে আগুন লেগেছে। তাই পলাশকে বলা হয় অরণ্যের অগ্নিশিখা।

বাংলা সাহিত্যে পলাশ ফুলের প্রসঙ্গ এসেছে নানাভাবে। বিশ্ব কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ পলাশকে দেখে লিখেছিলেন, “রাঙ্গা হাসি রাশি-রাশি অশোকে পলাশে, রাঙ্গা নেশা মেঘে মেশা প্রভাত-আকাশে, নবীন পাতায় লাগে রাঙ্গা হিল্লোল।”

কবি নজরুল ইসলাম তাঁর একটি গানে লিখেছেন হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল, এনে দে এনে দে নইলে, বাঁধব না, বাঁধব না চুল..

এছাড়াও আমাদের দেশের জনপ্রিয় একটি দেশাত্মবোধক গানে এর উল্লেখ পাওয়া যায়- ‘আমায় গেঁথে দাও না মাগো একটি পলাশ ফুলের মালা…’ আরো একটি জনপ্রিয় গান “পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে; এসেছে ফাগুন মাস”।

বসন্তের শেষে গাছগুলি যখন তাদের পাতা হারিয়ে দৃষ্টিকটুতায় আক্রান্ত হয়, তখনই প্রকৃতি তার আপন লীলায় মত্ত হয়ে দৃষ্টিকটু গাছে উজ্জ্বল লাল বা গাড় কমলা রং এর এই পলাশ ফুটিয়ে পলাশ গাছের আদর বাড়িয়ে দেয়। পাতাহীন গাছের ডালের যত্রতত্র ফুটতে দেখা যায় পলাশকে।

পলাশ ফুলের নাম জানেনা এমন লোক যেমন খুব কম আছে, তেমনি শহরবাসিদের মাঝেও খুব কম লোক আছেন যারা পলাশ ফুল চেনেন বা দেখেছেন। আপনি কি জানেন পলাশের আরেক নাম “কিংশুক”। ইংরেজী নাম Flame of the Forest, আর বৈজ্ঞানিক নামঃ Butea monosperma বুটিয়া মনোস্পার্মা।

চমৎকার এই ফুলটি সম্পর্কে উদ্ভিদবিদ দ্বিজেন শর্মা তার “ফুলগুলি যেন কথা” বইতে লিখেছেন- “মাঝারি আকারের পত্রমোচী দেশী গাছ। তিনটি পত্রিকা নিয়ে যৌগিক পত্র। ফুল ফোটে বসন্তে। শিম ফুলের মত, গাঢ় কমলা, লম্বা মঞ্জুরীতে ঘনবদ্ধ থাকে। সারাগাছ ফুলেফুলে ভরে ওঠে। বীজ থেকে সহজেই চারা জন্মায়।

পলাশের বিচি থেকে দেশীয় ভেজ্যষ ঔষধ তৈরি কারা হয়। একসময় পলাশ গাছের শিকড় দিয়ে মজবুত দড়ি তৈরি করা হতো। সেই সাথে পলাশের পাতা দিয়ে তৈরি হতো থালা। আজও কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন স্থানে এই পলাশ পাতার ছোট্ট বাটিতে ফুচকা বা পানিপুরি বিক্রি করা হয়। পলাশের আরো কিছু প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায়, যেমনঃ Butea frondosa, Erythrina monosperma, Plaso monosperma এরকমই আরেক প্রকার পলাশ যার বাংলা নাম “রুদ্রপলাশ”। এটা আমাদের পরিচিত পলাশ ফুল থেকে একটু ভিন্ন।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি