অবৈধভাবে ভোট দেওয়ায় নিউ হ্যাম্পশায়ারে এক অভিবাসী গ্রেপ্তার

নোমান সাবিত: ২০২৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত পর্বসহ একাধিক নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগে নিউ হ্যাম্পশায়ারে গ্রেপ্তার হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন অনাগরিক নাসিফ ব্রায়ান। তিনি বিদেশি নাগরিক। নিউ হ্যাম্পশায়ার ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ম্যানচেস্টারে বসবাসকারী ব্রায়ানের বিরুদ্ধে তিনটি 'ভুল ভোটদানের' অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ব্রায়ান ২০২৩ সালে স্থানীয় ম্যানচেস্টার নির্বাচনে এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট প্রাইমারি ও সাধারণ নির্বাচনে ইচ্ছাকৃতভাবে অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে, তার তিন বছর ছয় মাস থেকে সাত বছর পর্যন্ত রাজ্য কারাগারে সাজা হতে পারে এবং সর্বোচ্চ ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আগস্টে তাকে ম্যানচেস্টারের নবম সার্কিট কোর্টে হাজির করা হবে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচপিআর জানায়, ব্রায়ান ৩৪ বছর বয়সী একজন জ্যামাইকান অভিবাসী, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী)। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও ব্যক্তি—যেমন একটি স্থানীয় পুলিশ বিভাগ, কনকর্ডের একটি কমিউনিটি কলেজ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি মামলা দায়ের করার ইতিহাস রয়েছে।
ইউএসসিআইএস-এর বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর মধ্যে একটিতে ব্রায়ান 'মেরিটাইম আইন' উল্লেখ করেন এবং ক্ষতিপূর্বরূপ স্বর্ণমুদ্রা দাবি করেন। তবে তার অধিকাংশ মামলার ভাষা অস্পষ্ট এবং বিভিন্ন বিষয়ের সংমিশ্রণে জটিল বলে জানিয়েছে এনএইচপিআর।
২০২৪ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ারে রিপাবলিকানদের উদ্যোগে পাস হওয়া একটি নতুন আইনে ভোটার রেজিস্ট্রেশনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের প্রমাণ দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। যদিও আইনটি সেপ্টেম্বরে সই হয়েছিল, কার্যকর হয় ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কয়েকদিন পর।
উল্লেখ্য, নিউ হ্যাম্পশায়ারে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৫০% বনাম ৪৮% ভোটে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। তবে রাজ্যটির গভর্নর অফিস এবং উভয় আইনসভা ২০২১ সাল থেকে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে।
ব্রায়ানের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ভোটার তালিকায় বিদেশিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ আবার সামনে এসেছে।
টেক্সাসে, রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন সম্প্রতি এক তদন্ত শুরু করেছেন যেখানে অভিযোগ রয়েছে ১০০-এরও বেশি বিদেশি ২০২০ ও ২০২২ সালের নির্বাচন চক্রে অন্তত ২০০টি ভোট দিয়েছেন। অধিকাংশ সন্দেহভাজন অবৈধ ভোট হারিস কাউন্টিতে দেওয়া হয়েছে, তবে গুয়াডালুপ, ক্যামেরন এবং ইস্টল্যান্ড কাউন্টিতেও তদন্ত চলছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এ ঘটিনাটি আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। যার ফলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসের সেভ ডাটাবেসটি রাজ্যগুলোর হাতে দেয়।
এদিকে, নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইভেট ক্লার্কের একটি পুরনো ভিডিও আবার ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, অভিবাসীদের তার জেলায় 'পুনর্বিন্যাসের জন্য' প্রয়োজন। এতে অনেকের মনে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে বিদেশি বসতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
[বাংলা প্রেস বিশ্বব্যাপী মুক্তচিন্তার একটি সংবাদমাধ্যম। স্বাধীনচেতা ব্যক্তিদের জন্য নিরপেক্ষ খবর, বিশ্লেষণ এবং মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজ আগের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।] বিপি। সিএসআপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুলির শব্দে হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ, সরিয়ে নেওয়া হলো সংবাদকর্মীদের
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি