বাংলাদেশিদের কাছে
ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে চায় কলকাতার ব্যবসায়ীরা
সংগৃহীত ছবি
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দীর্ঘ দুই বছর পর অবশেষে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে নয়াদিল্লি। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে কলকাতার তথাকথিত ‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য পণ্যের দাম ও সেবামূল্য যৌক্তিক ও ন্যায্য রাখার এক অভূতপূর্ব ঘোষণা দিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের মতে, গত দুই বছরের ব্যবসায়িক ক্ষতি এক ধাক্কায় পুষিয়ে নেওয়ার চেয়ে ক্রেতাদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে বেশি জরুরি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী পর্যটন ভিসা চালুর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই কলকাতার মারকুইস স্ট্রিট, সাডার স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড এবং কলিন স্ট্রিট এলাকার হোটেল, রেস্তোরাঁ, খুচরা দোকান ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলোর মালিকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই পুরো বাণিজ্যিক অঞ্চলটি মূলত বাংলাদেশ থেকে আসা দর্শনার্থীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
সম্প্রতি কলকাতার আতিথেয়তা, পরিবহন, বৈদেশিক মুদ্রা এবং বাণিজ্য খাতের অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক যৌথ সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে চলা চরম অর্থনৈতিক মন্দার পর ব্যবসায়ীদের এই মানসিকতার পরিবর্তনকে একটি ইতিবাচক ও তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভিসা চালুর খবরে বাজারে ইতিবাচক আবহ তৈরি হলেও ব্যবসায়ীরা সাফ জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে অতিরিক্ত দাম বা ভাড়া আদায় করে তারা পর্যটকদের তাড়িয়ে দিতে চান না। কারণ বর্তমানে বাংলাদেশি পর্যটকদের সামনে অন্য দেশে ভ্রমণের একাধিক বিকল্প পথ খোলা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী খান জানান, গত দুই বছর তারা সবাই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তবে রাতারাতি সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ভাবনার সময় এটি নয়। পর্যটকরা যদি এসে দেখেন যে তারা ন্যায্য মূল্যে সঠিক সেবা ও পণ্য পাচ্ছেন, তবে তারা বারবার কলকাতায় ফিরে আসবেন এবং অন্যদেরও আসতে উৎসাহিত করবেন। এই দীর্ঘমেয়াদি সুনাম ও সদ্বিচ্ছা সাময়িক আর্থিক লাভের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
একই সুর শোনা গেছে ক্যালকাটা হোটেলস, গেস্ট হাউসেস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী সম্পাদক আফাক শামিমের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশি পর্যটকদের কলকাতায় আন্তরিক স্বাগত জানাচ্ছেন এবং অতীতের মতোই ন্যায্য মূল্যে সেরা সেবা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। উভয় পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হয়, এমন একটি দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার পর ভারতীয় পর্যটন ভিসা স্থগিত করা হয়েছিল। এর ফলে কলকাতার এই অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামে। যে হোটেল কক্ষগুলোর ভাড়া আগে প্রতি রাতে প্রায় ২,০০০ রুপি ছিল, পর্যটক সংকটে তা কমিয়ে ৯০০ থেকে ১,০০০ রুপিতে নামিয়ে আনতে বাধ্য হন মালিকরা। তারপরও হোটেলগুলোর প্রায় ৭৫ শতাংশ কক্ষ খালি পড়ে থাকত।
একইভাবে কলকাতার বিখ্যাত নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে বিক্রির একটি বড় অংশ আসত বাংলাদেশিদের হাত ধরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতিগুলোর হিসাব মতে, শুধুমাত্র এই ‘মিনি বাংলাদেশ’ এলাকাতেই গত দুই বছরে ১,০০০ কোটি রুপিরও বেশি লোকসান হয়েছে।
এই বিশাল ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কা সামলে উঠে ‘মিনি বাংলাদেশ’ অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের প্রধান লক্ষ্য এখন শুধু ব্যবসার পরিধি বাড়ানোই নয়, বরং কলকাতাকে আবারও একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও বন্ধুবৎসল পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
বিপি/টিআই
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
খামেনির জানাজাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি ইরানের
সঙ্গীত একাডেমি