নিউইয়র্কে একের পর এক কর্মসূচিতে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছবি : পিএমও
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: নিউইয়র্ক, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একের পর এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতায় কাটছে তাঁর সময়।
গত ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করছেন তিনি। নিউইয়র্ক সফরে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, মানবিক বিষয়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রথম দিনের কর্মসূচি
ইউএনজিএতে অংশগ্রহণের প্রথম দিন ২২ সেপ্টেম্বর সকালে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদল প্রধান ও তাঁদের সঙ্গীদের সম্মানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত প্রাতঃরাশ সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনজিএর ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কে অংশ নেন তিনি।
দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের ভাইস-প্রেসিডেন্ট উজ হুসেইন মোহাম্মদ লতিফ, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিল্স-এমের সঙ্গে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
এ ছাড়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।
দিনভর আরও বৈঠক করেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা, মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের চিফ গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলানের সঙ্গে।
সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আসা বিশ্বনেতাদের সম্মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
২৩ সেপ্টেম্বর মানবিক ও জলবায়ু ইস্যুতে গুরুত্ব
২৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মূল কেন্দ্রে রয়েছে মানবিক সমস্যা, জলবায়ু মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
এদিন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক জনহিতকর ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: আ রিনিউড কল ফর আ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তিনি। পাশাপাশি ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের প্রধান আকর্ষণ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে তাঁর ভাষণ।
সূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাধারণ পরিষদ হলে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। বিকেলের সেশনের ১৮ জন বক্তার মধ্যে তিনি ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেবেন। তাঁর বক্তব্যের জন্য ১৫ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওইদিন সকালে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকট মোকাবিলায় আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রারম্ভিক বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
২৫ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার প্রস্তুতি
নিউইয়র্ক ত্যাগের আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনে জেপি মরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির আয়োজিত একটি প্রাতঃরাশ সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একই দিনে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে তাঁর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সময় ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১১টায় এমিরেটসের ইকে২০২ ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সূত্র: বাসস
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
ঢাকায় অফিস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়ার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানের সাক্ষাৎ
বিশ্বমঞ্চে দেশের সম্মান রক্ষায় গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন
সঙ্গীত একাডেমি