ভুয়া রাজনৈতিক সমর্থনপত্র ও জাল সংবাদ ছড়ানোর অভিযোগ
নিউ ইয়র্কে সাবেক সিটি কাউন্সিল প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার
নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট-২৯-এর সাবেক প্রার্থী জোনাথন রিনাল্ডি
নোমান সাবিত: ২০২৫ সালের নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট-২৯ নির্বাচনে প্রচারণার সময় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুয়া রাজনৈতিক সমর্থনপত্র ও জাল সংবাদ প্রতিবেদন তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে সাবেক প্রার্থী জোনাথন রিনাল্ডির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মেলিন্ডা কাটজের দপ্তর সুত্রে এ খবর জানা গেছে।
ফরেস্ট হিলসের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী রিনাল্ডির বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির জালিয়াতির তিনটি এবং জাল নথি রাখার ১৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টের বিচারক ইন্দিরা খান তাকে আগামী ১৯ আগস্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধান অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ক্যাটজ বলেন, এখন সময় এসেছে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে ভুয়া রাজনৈতিক সমর্থন তৈরি করেছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তথ্যকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষা করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রিনাল্ডি তার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে নিয়মিত এআই-নির্মিত ছবি, ভিডিও ও ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করেন। এসব পোস্টে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সমর্থন দেখানো হয়, যারা বাস্তবে তাকে নয়, তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন করেছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কুইন্স জিউইশ অ্যালায়েন্সের (কিউজেএ) একটি আসল সমর্থনপত্র সম্পাদনা করে সেটিতে নিজের নাম যুক্ত করেন এবং সেটিকে প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সমর্থন হিসেবে প্রচার করেন। পরে সংগঠনটি পোস্টটি সরিয়ে নিতে বললেও তিনি তা পুনরায় সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, রিনাল্ডি এআই ব্যবহার করে নিউ ইয়র্ক পোস্ট-এর লোগো ও ডিজাইন নকল করে একটি ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করেন। সেখানে দেখানো হয় যে সাবেক সিটি কাউন্সিল সদস্য রবার্ট হোল্ডেন তাকে সমর্থন করেছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, এই ছবিটি তৈরির আগে তিনি অনলাইনে হোল্ডেনের ছবি খুঁজে বের করেন এবং এআই-এর মাধ্যমে নিজের মুখ বসিয়ে জাল ছবি তৈরি করেন।
এছাড়া তিনি ১১২তম প্রিসিংক্ট, পি.এস. ১০১ স্কুল এবং এশিয়ান ওয়েভ অ্যালায়েন্সের নামে ভুয়া সমর্থনমূলক ভিডিও তৈরি করেন। এসব ভিডিওতে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীদের তার পক্ষে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যদিও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউই প্রকৃত কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থী ছিলেন না।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের আদলে ভুয়া প্রতিবেদন তৈরি করে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান সিটি কাউন্সিল সদস্যকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ান। একটি ভুয়া প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখানো হয়, তার প্রতিদ্বন্দ্বী নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
প্রসিকিউটরদের মতে, এসব ভুয়া প্রতিবেদন তৈরিতে তিনি ওপেনএআই-এর সোরা এবং অন্যান্য এআই টুল ব্যবহার করেছিলেন। গত ২৪ জুন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির ডিটেকটিভ ব্যুরোর সদস্যরা রিনাল্ডিকে গ্রেপ্তার করেন। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই: দীনেশ ত্রিবেদী
২০ বছরের ডাক্তারি ছেড়ে রুটি বিক্রির ব্যবসায়, এখন সুখী সেই নারী
সঙ্গীত একাডেমি