২২ জুন ২০২৬

নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের হোম কেয়ার জালিয়াতি ঠেকাতে বিচার বিভাগের মামলা

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের হোম কেয়ার জালিয়াতি ঠেকাতে বিচার বিভাগের মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের কনজিউমার ডিরেক্টেড পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম (সিডিপ্যাপ)–সংক্রান্ত কথিত মেডিকেইড জালিয়াতি বন্ধে ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করেছে।
মামলায় বিবাদী করা হয়েছে নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ, নিউ ইয়র্ক স্টেটের মেডিকেইড পরিচালক আমির বাসিরি এবং জর্জিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পাবলিক পার্টনারশিপস এলএলসি (পিপিএল), যা ২০২৫ সাল থেকে নিউ ইয়র্কের সিডিপিএপি কর্মসূচি পরিচালনা করছে।
বিচার বিভাগের ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড বলেন, নিউইয়র্কের এই চুক্তির কারণে করদাতাদের কোটি কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এবং অসংখ্য মেডিকেইড সুবিধাভোগী সেবাবঞ্চিত হয়েছেন।
বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, পিপিএল নিউ ইয়র্কের ১০ বিলিয়ন ডলারের সিডিপিএপি কর্মসূচির দায়িত্ব নেওয়ার পর চুক্তির অনুমোদনের বাইরে গিয়ে কোটি কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করেছে, যার অর্থ এসেছে ফেডারেল করদাতাদের তহবিল থেকে।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ একটি প্রহসনমূলক দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পিপিএলকে এই লাভজনক চুক্তি দেয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি চুক্তির শর্ত ও দরপত্রে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে এমন তথ্য জানার পরও রাজ্য কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।
বিচার বিভাগ আদালতের কাছে অনুরোধ করেছে, পিপিএল ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সিডিপিএপি কর্মসূচি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া এবং চুক্তিতে অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও করদাতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা থেকে বিরত রাখতে।
সিডিপিএপি হলো একটি মেডিকেইড কর্মসূচি, যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী বা গুরুতর চিকিৎসা-প্রয়োজনসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বাড়িতে পরিচর্যার ব্যবস্থা করা হয়। ২০২৪ সালে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভা এই কর্মসূচির ব্যবস্থাপনা শত শত পৃথক আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর পরিবর্তে একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত করার আইন পাস করে।
বিচার বিভাগের অভিযোগ, যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের কথা বলেছিল, বাস্তবে আগেই পিপিএলকে এই বহু বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, পিপিএল এবং নিউ ইয়র্ক কর্তৃপক্ষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। তারা জানত যে ২০২৫ সালের ১ এপ্রিলের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না এবং এতে রোগীদের সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, তবুও সেই তথ্য গোপন রাখা হয়।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চুক্তিতে পিপিএলের আয় ও মুনাফার ওপর যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা কার্যকর করা হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হারে বিল করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছে এবং সিডিপিএপি সংস্কারের মাধ্যমে যে ব্যয় সাশ্রয়ের কথা ছিল, তার বড় অংশই নষ্ট হয়ে গেছে।
মামলাটি বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাফারমেটিভ লিটিগেশন ব্রাঞ্চ তদন্ত করেছে এবং বর্তমানে ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

* কপিরাইট ২০২৬ বাংলা প্রেস। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। এই উপাদান প্রকাশ, সম্প্রচার, পুনর্লিখন বা পুনর্বিতরণ করা যাবে না।

বিপি/এসএম

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি