৫ মে ২০২৬

নিউ ইয়র্কে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশনের 'গণহত্যা দিবস' পালন

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
নিউ ইয়র্কে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশনের 'গণহত্যা দিবস' পালন
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রস্থ জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন গণহত্যা দিবস পালন করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে পালন করেছে গণহত্যা দিবস দিবস। র‍্যালিসহ অনুষ্ঠানে শহীদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনালের ড. মনিরুল ইসলাম বলেন, আজ সেই ভয়াল কালরাত। সেই কালরাতে সামরিক অভিযান 'অপারেশন সাচলাইট' নামে গণহত্যার নীলনকশায় নির্বিচারে বাঙ্গালী হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল পাকিস্তানী হানাদার সেনাবাহিনী। ঢাকাসহ দেশের বিতিন্নস্থানে একরাতেই হানাদাররা নির্বিচারে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল প্রায় ৫০ হাজার থেকে লক্ষাধিক বাঙ্গালী। একদিনে এত নর-নাড়ীর হত্যা মানব জাতির ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।পঁচিশে মার্চের সেই ভয়াল কালরাতে শুরু হওয়া জেনোসাইডে যাঁরা প্রান উৎসর্গ করেছিল বাঙ্গালী জাতি তাঁদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে ও কৃতজ্ঞতা জানাবে অনন্তকাল। এর ধারাবহিকতায় ১৯৭১ সালে নয় মাসে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত জেনোসাইডে ত্রিশ লক্ষাধিক মানুষ নিহত হয়, দুই থেকে চার লক্ষ বাঙালি নারীকে যৌন নিপিড়ন শিকার হতে হয়, এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে পার্শ্ববর্তী ভারতে পালিয়ে যায় এবং দেশের মধ্যে তিন কোটি মানুষ নিরাপত্তাহীনভাবে টিকে থাকে। ৫০ বছর পাড় হলেও এত বড় জেনোসাইড এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেনি। সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধি ফাস্ট সেক্রেটারী মিঃ সোয়েব বলেন- ২৫ মার্চ জাতীয় জেনোসাইড দিবস। এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী জেনোসাইড শুরু করেছিল। মানবসভ্যতার ইতিহাসে এ এক কলঙ্কিত দিন। ২০১৭ সালে বাংলদেশ জাতীয় সংসদে জাতীয় জেনোসাইড দিবস হিসাবে দিনটি স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশে ও বিদেশে জাতীয় জেনোসাইড দিবস হিসাবে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। আজ আমরা এখানে জেনোসাইডে নিহতদের স্মরনের উদ্দেশে জমায়েত হয়েছি। একাওুরে বাংলাদেশে সংঘটিত বাঙ্গালী জেনোসাইড স্বীকৃতি প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিষয়ে প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে। অনুষ্ঠানের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর তার বক্তব্য বলেন, আজ ভয়াল ২৫ মার্চ, বাঙ্গালীর ইতিহাসে কালরাত। জাতীয় জেনোসাইড দিবস। বাঙ্গালীর স্বাধীনতার ইতিহাসের নৃশংস, ভয়ঙ্কর ও বিভীষিকাময় সব ঘটনা শুরু হয়েছিল এই রাতে। দিবসটি বাঙ্গালীর মুক্তির ইতিহাসে কালরাত হিসাবে চিরজীবন রক্তের অক্ষরে লেখা থাকবে। সভাপতি তার বক্তব্যে আরো বলেন- আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনীহা ও ব্যর্থতার কারন হতে পারে বাংলাদেশে সংঘটিত এত বড় জেনোসাইডের এখনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেনি। ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানি সেনাদের বিচার বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মহলের শক্তিশালী নজরদারি ছিল যুদ্ধাপরাধ বিচারের বিষয়ে। কিন্তু মুখ্য অপরাধীদের বিচার বন্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ কমে যায়। তাই আন্তর্জাতিক আদালতে পাকিস্থান হানাদার বাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ গ্রহন করলেই একাওুরে বাংলাদেশে সংঘটিত বাঙ্গালী জেনোসাইড আলোর মুখ ফিরে পাবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম জেনোসাইড মতো একটি ভয়াবহ ঘটনার মধ্য দিয়ে। তাই রাষ্ট্রের জন্মের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মান্তরে সক্রিয় রাখার প্রয়োজনে একাওুরের জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি একান্ত প্রয়োজন। জাতিসংঘের কাছে আহবান, একাত্তরের বাঙ্গালী জেনোসাইড স্বীকৃতি দিন এবং পৃথিবীর সব রকম জেনোসাইড এর প্রতিরোধ ও অবসানের জন্য পদক্ষেপ নিন। অনুষ্ঠানে জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক মঞ্জুর চৌধূরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নিউ ইয়র্কস্থ জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধি ফাস্ট সেক্রেটারী মিঃ সোয়েব। বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুল মূকিত চৌধূরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রীচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হাসান, আওয়ামী লীগ নেতা ফরাশত আলী, অধ্যাপক হোসনে আরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম, ইউএস জাসদের সাধারন সম্পাদক নূরে আলম জিকু, উওর আমেরিকা সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি মিথুন আহমেদ। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউইয়ক যুব লীগ সভাপতি খন্দকার জাহিদুল ইসলাম ও সাবেক ছাএনেতা শহিদুল ইসলাম প্রমূখ। আলোচনায় সকল বক্তারাই বাংলাদেশে একাত্তরে সংঘটিত বাঙ্গালী জেনোসাইডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে আরো জোড়ালো তৎপরতা চালানোর উপর জোর দিয়ে বক্তব্য দেন। বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি