৪ মে ২০২৬

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে
সুলতানা মাসুমা , লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি: সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা আমাদের এই সোনার বাংলা। গোলাভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছে সমৃদ্ধ ছিল এ দেশ। এদেশ এত সমৃদ্ধ এত সম্পদশালী ছিল যে বিদেশি বর্গীরা বারবার এদেশ হানা দিয়েছে । এদেশে বাণিজ্য করতে এসেছে ফ্রান্স তুর্কি, ইংরেজরা সহ আরও অনেক বণিকরা।মাছে ভাতে বাঙালি নামে পরিচিত ছিল এই বাঙালি জাতি । কিন্তু বর্তমানে অনেকেই যেন অল্প সময়ে ধনী হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এই অল্প সময়ে ধনী হতে চেয়ে তারা আশ্রয় নিয়েছে দুর্নীতির। দুর্নীতি যেন ছেয়ে গেছে এদেশে। যার ফলে উচ্চবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত দুটিশ্রেণীর ব্যাপক বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে এদেশে।তাইতো যোগ্য মেধাবীরা বেকার হয়ে হতাশায় ভুগছে আর মেধাহীনরা পয়সা আর দুর্বল সার্টিফিকেটের জোরে সরকারি কর্মকর্তা বনে যাচ্ছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি অপরদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে ভেজাল মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ হয়তো মাছ-মাংস চোখেই দেখেনা তাদের খাবার প্লেটে। জীবন ধারণের উপযোগী প্রতিটি জিনিসের অগ্নিমূল্য।চাল, ডাল, মাছ, মাংস, তেল, তরিতরকারির, ফলমূল, চিনি, লবণ গম, আটার রুটি, বিস্কুট ইত্যাদি প্রতিটি দ্রব্যমূল্যের দাম আগের থেকে তুলনায় কয়েকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনের দুর্ভোগ আজ চরমে। ইদানিং জিনিসপত্রের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে কিন্তু মানুষের আয় বাড়েনি।অতিরিক্ত মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের জন্য সাধারণ মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে । বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি করছেন। অপরদিকে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে নিম্নবিত্তের সাথে মধ্যবিত্তরাও টিসিবির লাইনে সামিল হচ্ছেন। এরকম দৃশ্য দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে এদেশে দেখা যায়নি। টিসিবির লাইনে দাঁড়ানো অনেকে ক্যামেরা দেখলেই মুখ লুকাচ্ছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি হওয়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের অনেকেই টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোর অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ করেছেন। অপরদিকে টিসিবি বলেছে, তাদের পণ্যের মান ভাল এবং দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় মানুষ তাদের পণ্য কিনতে আগ্রহী হচ্ছে। কিন্তু যে কৃষক রোদ-বৃষ্টিতে খেটে দিন রাত পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করছে। মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের কারণে সেই কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে যদি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পায়? তবে আগামীতে কৃষকরা ফসল উৎপাদনে অনুৎসাহিত হয়ে পড়বে।। কৃষি ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশ ও খাদ্য সংকটে পড়বে। এ কারণে কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য যাতে বৃদ্ধি না পায়? সেজন্য অতিলোভী অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দমন করতে হবে। প্রত্যেকটি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্য তালিকা টাঙাতে হবে এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রয় হচ্ছে কিনা সেটি পর্যবেক্ষণের জন্য বাজারে দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি গঠনের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকার ও ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছাই পারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি রোধ করতে। এবং সরকারই পারে দেশের সাধারন মানুষ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত কর। বিপি/কেজে
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি