১০ আগস্ট ২০২৬

ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ পিএম
ম্যানেজিং কমিটির হাতেই যাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগ, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত ‘চূড়ান্ত’


বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে ১০০ ভাগ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ভারতেও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় এবং নির্বাচন নিয়ে সেখানে নিয়মিত অভিযোগ ওঠে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর সবাই তা মেনে নেয়।

সোমবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে ‘২০২৬ সালের রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতা: গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথের ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) ও অধিকার যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, সরকার ও বিরোধী দলকে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভাষা, শব্দচয়ন ও বাক্যবিন্যাসে সতর্ক থাকতে হবে। তা না হলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার মানসিকতা তৈরি হতে পারে। তার মতে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যত আইনই করা হোক, মানুষের মানসিকতার পরিবর্তন না হলে সেসব উদ্যোগ কার্যকর হবে না।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে সাম্প্রতিক সময়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেক নেতা-কর্মীকে দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন থেকে বহিষ্কার, অব্যাহতি ও শোকজ করা হয়েছে। এটিকে তিনি দলের ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।


তিনি বলেন, অতীতে কোনো ‘রংবাজ’ বা ‘মাসলম্যান’ বিরোধী দলের কার্যালয় ভাঙলে কিংবা বিরোধী দলকে প্রতিহত করলে তাদের প্রশংসা করা হতো। কিন্তু এবার বিএনপি দলীয় কোনো মাস্তান, সন্ত্রাস বা দখলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে ছাড় দেয়নি। একটি দল যখন নিজেদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে পারে, তখন সেই দল সঠিক পথে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকারের তীব্র সমালোচনা বিরোধী দলের দায়িত্ব। তবে সেই সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক, পারস্পরিকভাবে উপকারী এবং ভবিষ্যতমুখী। এতে গণতন্ত্রের পথচলা আরও মসৃণ হবে এবং রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটবে।

তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য আগে নিজেদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে পরে অন্যের দিকে তাকানো জরুরি। একতরফাভাবে কোনো পক্ষকে দায়ী না করে উভয় পক্ষের ভূমিকা বিবেচনা করতে হবে। তার ভাষায়, ‘এক হাতে তালি বাজে না।’বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির হাতে দেওয়ার ‘চূড়ান্ত’ সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর ফলে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) আর শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে না।আজ সোমবার দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভার কার্যবিবরণী থেকে জানা যায়, এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান সভায় অবহিত করেন, ২০০৫ সালের ১ নম্বর আইন ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রণীত ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ ও প্রত্যয়ন বিধিমালা, ২০০৬’ অনুযায়ী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতা নিরূপণ এবং এ বিষয়ে প্রত্যয়নপত্র প্রদানের উদ্দেশে প্রতি পঞ্জিকা বর্ষে অন্তত একবার পরীক্ষা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) সর্বশেষ ২০২৩ সালে নিয়োগ পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সে প্রেক্ষিতে ১৯তম এনটিআরসিএ শিক্ষক (প্রবেশ পর্যায়) নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী ড. মিলন জানান, ২০০৫ সাল হতে ২০১৫ সালের পূর্বে এনটিআরসিএ কেবলমাত্র নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করত। ২০১৫ সাল থেকে এনটিআরসিএর সক্ষমতার বাইরে গিয়ে নিয়োগ সুপারিশ করার পর থেকে বিভিন্ন জটিলতা, মামলা এবং অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার সুষ্ঠুভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং একটি সুস্থ ও কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নিমিত্তে নিরলসভাবে কাজ করছে। এনটিআরসিএর বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনে পূর্বের ন্যায় এনটিআরসিএ কর্তৃক কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং প্রত্যয়নপত্রধারী শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি কর্তৃক বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। শিক্ষামন্ত্রীর অভিমতের সঙ্গে সভায় উপস্থিত সবাই এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

কার্যবিবরণীতে সভার সিদ্ধান্তে লেখা হয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ অনুযায়ী এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। শুধু তাই নয়, সভার সিদ্ধান্ত মতে, ‘১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯৮৪২ জন তাদের পছন্দ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বউদ্যোগে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত হবেন। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিপত্র/প্রজ্ঞাপন সংশোধন/জারি করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যম বলছে, ওইদিনের সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ হবে। এনটিআরসিএ আর নিয়োগের সুপারিশ করবে না। এজন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম এক দশক সংস্থাটি কেবল শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে সনদ দিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংস্থাটি নিবন্ধনধারী শিক্ষকদের সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। ফলে ঘুস ছাড়া শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত হয়ে যায়। সুফল ভোগ করে অসংখ্য মানুষ। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি