ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রমাণিত ১১৪ অভিযোগে কী ছিল?
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভাঙার ১০০টির বেশি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই অভিযোগ আনা হয়। এক স্বাধীন কমিশনের শুনানি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হয়। এখন খবর আসছে, বেশিরভাগ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটি এখন আপিল পর্যায়ে যাচ্ছে।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর ধরে আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম ভাঙার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করারও অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে।
২০২৩ সালে যখন প্রিমিয়ার লিগ সিটিকে অভিযুক্ত করে, তখন তাদের বিবৃতিতে ১১৫টি অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হয়, আসল সংখ্যা ১৩০টি।
এই সময়ের মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটি তিনবার প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতে। যদিও ক্লাবটি সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম তৈরি করা হয়েছে, যাতে ক্লাবগুলো নিজেদের আয়ের মধ্যেই খরচ করে। আয় বাড়িয়ে দেখিয়ে বা খরচ লুকিয়ে এই নিয়ম এড়ানো সম্ভব। এভাবে একটা ক্লাব বেশি টাকা খরচ করে খেলোয়াড় কেনা বা বেতন দিতে পারে।
প্রিমিয়ার লিগের দাবি, সিটি নয় মৌসুম ধরে সঠিক আর্থিক তথ্য না দিয়ে নিয়ম ভেঙেছে।
অভিযোগগুলোর একটি হলো, সিটি চার বছর ধরে তাদের এক কোচকে দেওয়া অর্থের পুরো তথ্য জানায়নি। ধারণা করা হয়, একটা গোপন চুক্তি ছিল, যাতে ওই কোচকে আনুষ্ঠানিক হিসাবের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়া হতো।
প্রিমিয়ার লিগ আরও বলছে, সিটি পাঁচ বছর ধরে উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতার নিয়মও মানেনি।
এই অভিযোগগুলো প্রথম প্রকাশ পায় ২০১৮ সালে জার্মানির ডার স্পিগেল পত্রিকার কিছু প্রতিবেদনে। এসব প্রতিবেদন তৈরি হয়েছিল পর্তুগিজ হ্যাকার রুই পিন্টোর সংগ্রহ করা ইমেইলের ভিত্তিতে। এই ইমেইলগুলো ফুটবল লিকস ওয়েবসাইটেও প্রকাশ পায়।
এই খবরের পরই ২০১৯ সালে উয়েফা সিটির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। একই সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগও তদন্ত শুরু করে।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উয়েফার আর্থিক ন্যায্যতার নিয়ম ভাঙার দায়ে সিটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের দুই বছরের ইউরোপিয়ান নিষেধাজ্ঞা ও ৩০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করা হয়। তবে পাঁচ মাস পর কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (ক্যাস) নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় এবং জরিমানা কমিয়ে ১০ মিলিয়ন ইউরো করে।
ক্যাস জানায়, সিটি ‘উয়েফার তদন্ত প্রক্রিয়াকে স্পষ্টভাবে অবহেলা করেছে’। তবে তারা সিটিকে ‘স্পনসরশিপ হিসেবে দেখিয়ে গোপন মূলধন লুকানোর’ অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়। রায়ে বলা হয়, বেশিরভাগ অভিযোগ ‘হয় প্রমাণিত হয়নি, নয়তো সময়সীমা পার হয়ে গেছে’। কারণ উয়েফার নিয়মে মামলা করার জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা আছে।
সিটি বলেছিল, ক্যাসের এই রায় ‘ক্লাবের অবস্থান এবং তারা যে প্রমাণ দিয়েছিল, তার সত্যতার প্রমাণ’।
তবে প্রিমিয়ার লিগের ক্ষেত্রে অভিযোগ তদন্তের কোনো সময়সীমা নেই। এ কারণেই তারা ২০০৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে গিয়ে অভিযোগ এনেছে।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন প্রিমিয়ার লিগ সিটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে, তখন ক্লাবটি জানায়, তারা এই ঘটনায় ‘বিস্মিত’। তারা আরও বলে, তাদের অবস্থানের পক্ষে ‘অকাট্য প্রমাণের একটি পূর্ণাঙ্গ সংগ্রহ’ আছে।
প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে সিটির এই মামলার শুনানি ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে।
লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ডিসপিউট রেজোলিউশন সেন্টারে তিন সদস্যের একটি স্বাধীন কমিশনের সামনে ১২ সপ্তাহ ধরে এই শুনানি হয়।
শুনানি শেষ হওয়ার পর রায় আসতে কয়েক মাস সময় লাগবে বলে আগে থেকেই ধারণা করা হয়েছিল। কারণ অভিযোগের সংখ্যা অনেক এবং পর্যালোচনার জন্য তথ্যের পরিমাণও অনেক বেশি।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি