মুগ ডাল বনাম আরহার ডাল: হজমের জন্য কোনটি ভালো?
মিনারা হেলেন: ভারতীয় খাদ্যাভ্যাসে ডাল প্রতিদিনের খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে খাবার খাওয়ার পর যদি পেট ফাঁপা, গ্যাস বা ভারী লাগার সমস্যা হয়, তাহলে আপনি কোন ধরনের ডাল বেছে নিচ্ছেন—তা বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কিছু ডাল সহজে হজম হয় এবং পেটকে আরাম দেয়, আবার কিছু ডালে আঁশ বেশি থাকায় তা অন্ত্রে ফারমেন্ট হয়ে গ্যাস তৈরি করতে পারে। ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট পালক নাগপাল ব্যাখ্যা করেছেন—কোন ডালটি পেটের জন্য বেশি সহনীয় এবং কীভাবে রান্না করলে হজম আরও সহজ হয়।
মুগ ডাল
মুগ ডাল, বিশেষ করে হলুদ ভাঙা মুগ ডাল, হজমের জন্য সবচেয়ে সহজ ডাল হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। নাগপালের ভাষায়,
“মুগ ডাল পেটের জন্য সবচেয়ে কোমল ডাল। এতে ফারমেন্টযোগ্য আঁশ কম থাকায় অন্য ডালের তুলনায় গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা অনেক কম হয়।”
এর গঠন সহজ এবং টেক্সচার নরম হওয়ায় এটি পরিপাকতন্ত্রে দ্রুত ভেঙে যায়। ফলে যাদের পেট সংবেদনশীল, অম্বল আছে, আইবিএসের প্রবণতা রয়েছে কিংবা অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন—তাদের জন্য মুগ ডাল বিশেষভাবে উপযোগী।
আরহার (তূর) ডাল
আরহার বা তূর ডাল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং বহু ভারতীয় পরিবারের নিয়মিত খাবার। তবে মুগ ডালের তুলনায় এতে আঁশের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সংবেদনশীল পেটের জন্য এটি একটু কঠিন হতে পারে। নাগপাল বলেন,
“আরহার ডাল পুষ্টিকর হলেও এতে জটিল আঁশ বেশি থাকে, যা সংবেদনশীল পেটের জন্য ভাঙতে তুলনামূলকভাবে কঠিন।”
তবুও এটি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য ভালো একটি ডাল—শুধু রান্নার ক্ষেত্রে একটু সচেতনতা দরকার।
কেন রান্নার পদ্ধতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
ডাল কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে খাওয়ার পর আপনার পেট কেমন অনুভব করবে। নাগপাল জোর দিয়ে বলেন,
“ডাল ভিজিয়ে রাখা হলো গ্যাস সৃষ্টিকারী উপাদান কমানোর এবং হজম সহজ করার সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি।”
কয়েকটি সহজ অভ্যাস যেকোনো ডালকে হজমের জন্য অনেক বেশি সহনীয় করে তুলতে পারে—
ভিজিয়ে রাখা:
“ডাল রাতভর ভিজিয়ে রাখুন এবং পানিতে সামান্য আপেল সিডার ভিনেগার যোগ করুন—এতে হজমের ক্ষমতা অনেকটাই বাড়ে।”
প্রেশার কুকারে রান্না:
“প্রেশার কুকারে রান্না করলে আঁশ ও প্রোটিন ভালোভাবে ভেঙে যায়, ফলে পেটের ওপর চাপ কম পড়ে।”
হজমে সহায়ক মসলা ব্যবহার:
“হিং, জিরা, আজওয়াইন, আদা ও হলুদের মতো হজমে সহায়ক মসলা গ্যাস কমাতে এবং এনজাইমের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে।”
আধসেদ্ধ ডাল এড়ানো:
“ডাল ভালোভাবে না সেদ্ধ হলে তা অন্ত্রে ফারমেন্ট হয়ে বেশি গ্যাস তৈরি করে—তাই আধসেদ্ধ ডাল এড়িয়ে চলুন।”
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি