মেহেরপুরে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ
মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনীতে অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছ থেকে বদলি নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে গাংনী প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। গাংনীর সহকারী শিক্ষা অফিসার এহেসানুল হাবিব তার পছন্দের শিক্ষক তানজিদুল রহমান মুক্তির মাধ্যমে শিক্ষকদের চাপ দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে এ অর্থ আদায় করছেন। একাধিক শিক্ষক আভিযোগ করে বলেন , গাংনী উপজেলার নব্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকাদের পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলির নামে একেক জনের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারীতে সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিক্ষার মান উন্নয়নে সমন্বয় বদলীর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই সিদ্ধান্ত মোতাবেক গাংনীতেও এ বদলি প্রক্রিয়া শুরু হলে প্রায় শতাধিক শিক্ষক আবেদন করেন।
এ আবেদনের পর গাংনীর স্বঘোষিত প্রাথমিক শিক্ষক নেতা ও শিক্ষা অফিসের দালাল তানজিদুল রহমান মুক্তি শিক্ষকদের বদলীর আবেদনসহ বদলি আদেশের রেজিস্টার নিজের কাছে নিয়ে নেন। এর পর আবেদন কৃত শিক্ষকদের ডেকে তিনি বদলীর আবেদনের জন্য টাকা চেয়ে চাপাচাপি শুরু করেন। স্কুল ভেদে কোন শিক্ষকের কাছ থেকে ২০ হাজার আবার কোন শিক্ষকের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন। টাকা দিতে পারলে বদলী আর টাকা না দিলে বদলী নেই। এমনকি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষকের শূন্য পদের তালিকা দিলেও সেসব প্রার্থীকে বদলি করা হয়নি। মন্ত্রী, এমপি, সচিবসহ বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের গতপারিশও আমলে নেওয়া হয়নি। জ্যেষ্ঠ না হওয়ার পরও অর্থের বিনিময়ে বদলির জোরালো অভিযোগ উঠেছে। যারা শিক্ষা অফিসের দালাল তানজিদুল রহমান মুক্তির সাথে রফা করতে পেরেছেন, তারাই পছন্দের বিদ্যালয়ে বদলি হতে পেরেছেন। আর এর সাথে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজোশ রয়েছে। বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে গাংনী প্রাথমিক শিক্ষকসহ শিক্ষা অফিসে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
আভিযোগ আরো জানা গেছে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আবেদন করা ৪জন সিনিয়র শিক্ষককে টপকিয়ে তানজিদুল রহমান মুক্তির বোন নাসরিন নাহার লপিকে নপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে গাংনী চৌগাছা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী করা হয়েছে । এ অনিয়মের আভিযোগ তুলে ৪ প্রাথমিক শিক্ষক মেহেরপুর জেলা প্রশাসক সহ জেলা শিক্ষা অফিসে লিখিত আভিযোগে জানিয়েছেন। তাদের প্রমোশনসহ বদলীর ফাইল গায়েব করে দিয়ে প্রত্যেকের কাছ থেকে জোরকরে ১ লক্ষ টাকা করে নিয়েছে। তারপরও তাদের বদলী প্রমোশন কোনটায় হয়নি। আবার টাকাও ফেরত পায়নি। এ বিষয়ে অফিস সহকারী রেজাউল হক বলেন, এ বছর তিনি বদলি সংক্রান্ত কোন রেজিস্টার ভুক্ত করেননি। এমনকি রেজিস্টারে স্বাক্ষরও করেননি। সহকারী থানা শিক্ষা কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত থানা প্রা.শিক্ষা কর্মকর্তা) নিজেই বিষয়টি দেখভাল করেছেন। সহকারী শিক্ষা আফিসার এহেসানুল হাবিব-বলেন. নিয়ম অনুযায়ী বদলী করা হয়েছে। তবে বদলী রেজিস্টার ও আবেদনের বিষয়টি গোপনীয় তাই বলা যাবেনা। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা আফিসার আতাউর রহমান বলেন, আমি গাংনীতে ২০ দিন আগে এসে যোগ দিয়েছি। আমার আসার পূর্বে এ ঘটনা ঘটছে।
সহকারী শিক্ষা অফিসার এহেসানুল হাবিব ইতি পূর্বে গাংনীর ভ্রারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার ছিলেন। তিনি এসব বিষয় গুলো বলতে পারবেন। বদলি রেজি¯টার এর বিষয়ে তিনি বলেন কোন গাদায় পরে আছে আমি জানিনা। তবে এটা অফিস সহকারির কাছে থাকার কথা। তিনাকে বদলী রেজিস্টার একজন শিক্ষক নেতার কাছে আছে বলে প্রশ্ন করলে। তিনি বলেন এ বিষয়ে হাবিবকে প্রশ্ন করেন তিনি ভালো বলতে পারবেন। তানজিদুল রহমান মুক্তি বলেন আমি সংসদ সদস্যর কাছের লোক। আমি যা করি তাঁর আশির্বাদ নিয়েই করি। তাই কেউ কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে আমার নামে অপপ্রচার করছে। আমি এগুলোর সাথে জড়িত নয়। বদলি রেজিস্টার সমন্ধে তিনি বলেন শিক্ষক নেতা হিসাবে বদলী সংক্রান্ত কাজ দেখভাল করি তাই বদলী রেজিস্টার আমার কাছে থাকলে দোষেরকি? জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জেসের আলী বলেন, বিষয়টি বেশ কিছুদিন আগের। কয়েক জন বদলী হয়েছে তবে টাকাপয়সার বিষয়টা আমার জানা নেই।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি