৫ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরীক্ষা, কংগ্রেসের দিকে নজর ডেমোক্র্যাটদের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরীক্ষা, কংগ্রেসের দিকে নজর ডেমোক্র্যাটদের

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র এক মাস বাকি। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে এবং তার বিভিন্ন নীতির বাস্তবায়ন আটকে দিতে পারবে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

৩ নভেম্বরের নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম অস্থির প্রেসিডেন্টের শাসনের ওপর এক ধরনের জনরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিভিন্ন জরিপের হিসাবে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা আধুনিক জনমত জরিপের ইতিহাসে তার পূর্বসূরিদের তুলনায় সবচেয়ে নিচে রয়েছে।

এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং ১০০ সদস্যের সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হবে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। কংগ্রেস আইন প্রণয়ন করে, সরকারের বাজেট নির্ধারণ করে এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি চালায়।

নির্বাচনী পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ-এর হিসাবে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ এবং তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ২৩৪টি, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ২০১টি। সিনেটের ক্ষেত্রে লড়াইটি প্রায় সমান বলে প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে এবং ডেমোক্র্যাটদের ৫১-৪৯ ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।

শুধু প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং সমন জারি করে তথ্য বা সাক্ষ্য তলবের ক্ষমতা পাবে।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরি বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে ‘দুর্নীতিবাজদের জবাবদিহির আওতায় আনবেন’। তিনি আরও বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের শুল্কনীতি বাতিল, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ বন্ধ এবং স্বাস্থ্যবিমা ভর্তুকি পুনর্বহালের উদ্যোগ নেবে।

ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও পাবে।

অর্থনৈতিক চাপ: ট্রাম্প নিজেই এবারের নির্বাচনকে তার সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর এক ধরনের মূল্যায়ন হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন। এটি তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ বিভিন্ন জরিপে তার অনুমোদনের হার ৩০-এর মাঝামাঝি থেকে নিচের দিকে রয়েছে, যা তার রাজনৈতিক জীবনের সর্বনিম্ন। জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় তার ভূমিকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ১৭ শতাংশ ভোটার।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৯৯০ সাল থেকে তাদের পরিচালিত জরিপের ইতিহাসে কোনো প্রেসিডেন্টই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এত কম সমর্থন নিয়ে নির্বাচনের মুখোমুখি হননি।

ট্রাম্প ক্ষমতায় ফিরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, যা তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময়ের তুলনায় বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন অষ্টম মাসে পড়েছে এবং এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের বেশি হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক।

আইওয়া, মিশিগান ও ওহাইও অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীরা প্রকাশ্যেই ট্রাম্পকে যুদ্ধ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি