৪ মে ২০২৬

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেপথ্য ঘটনা বলায় যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ সভাপতিকে আইনি নোটিশ

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪০ পিএম
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেপথ্য ঘটনা বলায় যুক্তরাষ্ট্র আ.লীগ সভাপতিকে আইনি নোটিশ
মিনারা হেলেন: মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং এর সাবেক-বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার নেপথ্য ঘটনা নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য আইনি নোটিশ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষ্যে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত 'বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় র‍্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নেপথ্যে দু'ব্যক্তি জড়িত উল্লেখ করে বক্তব্য দেন। এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মূলতঃ ইউটিউব ভিডিও দেখে গত সোমবার (৬ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিয়োজিত ফিজি'র সাবেক রাষ্ট্রদূত ও ডেমোক্র্যাট নেতা এম ওসমান সিদ্দিকের আইনজীবির পাঠানো উক্ত আইনি নোটিশটি পাঠান। গত ৮ মার্চ সিদ্দিকুর রহমান হাতে পেয়েছেন বলে জানা গেছে। নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে অনুষ্ঠিত উক্ত 'বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকা' সভায় ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং এর সাবেক-বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার পেছনে ড. ইউনূস এবং সাবেক চ্যান্সেলর ওসমান গণির যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানরত ছেলে জড়িত রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে ওসমান গণির দুই ছেলে অবস্থানরত করছেন। অন্যজন হচ্ছেন বাংলাদেশের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বিএনপি নেতা ড. ওসমান ফারুক। কিন্তু মজার ব্যাপার সিদ্দিকুর রহমান সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও ওসমান সিদ্দিক বুঝেই নিয়েছেন তিনিই সেই ব্যক্তি। আর এ কারণেই মামলার করার ভয় দেখিয়ে তিনি টেলোস+আরেটি মার্কিন ল ফার্মের আইনজীবী কার্ল এইচ জোসেফ-ব্লাক দিয়ে উক্ত আইনি নোটিশ পাঠান। ঘটনার দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি হলেও প্রেরিত নোটিশে ২৫ ফেব্রুয়ারি উল্লেখ করা হয়। নোটিশের অনুলিপি হোয়াটসআপ যোগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের কাছে পাঠানো ছাড়াও ই-মেইলযোগে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউ ইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে পাঠানো হয়েছে। নোটিশে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন এবং ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানের উপস্থিতিতে ড. সিদ্দিুকুর রহমান মিথ্যা ও বানোয়াট বক্তব্য দিয়েছেন। এতে অ্যাটর্নি জোসেফের ক্লায়েন্ট ড. ওসমান সিদ্দিকের মানহানি হয়েছে। মিস্টার ওসমান সিদ্দিক সাবেক চ্যান্সেলর ওসমান গনির সন্তান ও ক্লিনটন প্রশাসনের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয় আগামীতে ওসমান সিদ্দিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের মানহানিকর ও অসন্মানজনক বক্তব্য প্রদান থেকে সিদ্দিকুর রহমানকে বিরত থাকতে হবে। কনস্যুলেটে দেয়া অসন্মানজনক ও মিথ্যা বক্তব্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যহার করতে হবে। তা প্রত্যাহার করে ঢাকার পরররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশে দূতাবাস, ইউনাইটেড স্টেট ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও ওসমান সিদ্দিকের এটর্নি অফিসে পাঠাতে হবে। আগামী ২০ মার্চের মধ্যে ড. সিদ্দিকুর রহমান তা করতে ব্যর্থ হলে ওসমান সিদ্দিকের পক্ষে ল ফার্ম আদালতে মামলা করবে। ড. সিদ্দিকুর রহমান এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি তার বক্তব্যে ড. ইউনূসের নাম উল্লেখ করেছি কিন্তু ওসমান সিদ্দিকের নাম উল্লেখ করি নাই। আমি বলেছি যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানরত ওসমান গণির ছেলে। তার আরো এ ভাই তো যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। তাহলে ওসমান সিদ্দিক কীভাবে বুঝলেন তিনি সেই ব্যক্তি? সিদিকুর রহমান বলেন, ওয়াশিংটন পোষ্টে ড. ইউনুসের সাফাই গেয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ৪০ জনের বিবৃতি বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ পাওয়ায় দেশের মানুষ যখন সোচ্চার হয়ে উঠেছে ঠিক তখনই ওসমান সিদ্দিক আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। তবে বিষয়টি তিনি আইনিভাবেই মোকাবেলা করে এদের মূখোশ খুলে দেবেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন। উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং এর সাবেক-বর্তমান ছয় কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের যুদ্ধে অংশ নিয়ে র‌্যাব আইনের শাসন ও মানবাধিকার খর্ব করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ এতে হুমকির মুখে পড়েছে। তাদের একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়। নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, র‌্যাব ডিজি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিজি ও বর্তমান আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের অতিরিক্ত ডিজি খান মোহাম্মদ আজাদ, তোফায়েল মুস্তাফা সারোয়ার, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ আনওয়ার লতিফ খান। বিপি।এসএম    
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি