
নিজস্ব প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত করোনাভাইরাস মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ বিল পাস হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ৭৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি। কয়েক মাসের রাজনৈতিক বিবাদের পর সোমবার রাতে এ সংক্রান্ত বিলটি সিনেটে পাস হয়।বিলটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে যাবে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুতই বিলটি পাস হয়ে যাবে।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পরে রিলিফ প্যাকেজ ছাড়াও নতুন অর্থবছরের জন্য ফেডারেল এজেন্সিগুলিকে তহবিল সরবরাহের জন্য এক বিশাল ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল বিল পাস হয়েছে।
নতুন প্রণোদনায় প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সরাসরি এককালীন ৬০০ ডলার প্রদান, অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের জন্য এককালীন সরাসরি ৬০০ ডলার, প্রতি সপ্তাহে ৩০০ ডলার বর্ধিত বেকার ভাতা, এছাড়া পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রামের প্রায় ২৮৪ বিলিয়ন ডলার, বাড়ি ভাড়া সহায়তাতে ২৫ বিলিয়ন ডলার, উচ্ছেদের স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো এবং স্কুল ও কলেজগুলির জন্য ৮২ বিলিয়ন ডলার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা মিচ ম্যাককনেল চুক্তিটি ঘোষণার পর রবিবার রাতে বলেছিলেন, ‘আমরা শেষ অবধি আমাদের জাতির দীর্ঘকাল যা শোনার দরকার ছিল তা জানাতে পেরেছি। ’এর আগে চলতি বছরের শুরুতে করোনা ভাইরাসকালে ২ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রথম প্রণোদনা প্যাকেজ পাস হয়েছিল।
এই বিলে প্রণোদনা হিসেবে জনপ্রতি ৬০০ ডলার করে দেয়া হবে। ওই অর্থ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত সরকারের তহবিলে অর্থ জোগান দেয়া হবে। করোনাভাইরাস টিকা অতিদ্রুত সরবরাহ এবং করোনা মহামারীর কারণে যেসব ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক শ্লথগতির জন্য যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে সাহায্য শিগগিরই পৌঁছানোর অঙ্গীকার করা হয়েছে বিলে।
কংগ্রেসের উচ্চকক্ষে পাস হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে বিলটি নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেও অনুমোদিত হয়।নতুন এ প্রণোদনা প্যাকেজে অসংখ্য আমেরিকানকে এককালীন ৬০০ ডলার অর্থ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী এবং বেকারদের জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই এ বিলে স্বাক্ষর করে একে আইনে পরিণত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নতুন এ সহায়তা প্যাকেজকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রণোদনা প্যাকেজের বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ৩৫৯-৫৩ ভোটে গৃহীত হয়, সিনেটে পাস হয় ৯২-৬ ভোটে।
যুক্তরাষ্ট্রে এতদিন যেসব কোভিড-১৯ সহায়তা প্রকল্প ছিল তার অনেকগুলোই এ মাসে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দেশটির প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ বেকারভাতা ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তেন।
কংগ্রেসের অনেক আইনপ্রণেতা বলেছেন, তারা সহায়তা তহবিল নিয়ে এতটাই উদগ্রীব ছিলেন যে অনেকে বিশাল এ বিলটি পড়ে দেখারও সুযোগ পাননি। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ পৃষ্ঠার এ বিলকে যুক্তরাষ্ট্রের স্মরণকালের ইতিহাসে এবং ‘সম্ভবত কখনোই হয়নি’ এমন দীর্ঘ বিল বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে আর্ন্তজাতিক একটি বার্তা সংস্থা।
এবারের প্রণোদনায় প্রতি সপ্তাহে বেকারভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০০ ডলারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, চাকরিহারাদের জন্য নেওয়া নানান কর্মসূচির মেয়াদ বাড়িয়ে বসন্তকাল পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রণোদনায় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় ৩০ হাজার কোটি ডলার রাখা হয়েছে; বরাদ্দ রাখা হয়েছে ভ্যাকসিন বিতরণ, উচ্ছেদের মুখে পড়া স্কুল ও ভাড়াটিয়াদের জন্যও। রোববার সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের নেতা মিচ ম্যাককনেল ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রণোদনা প্যাকেজ নিয়ে সমঝোতা হওয়ার কথা জানান।
“কেউই আমরা এ আইনকে নিখুঁত মনে করছি না; কিন্তু দুই দলের একটি বড় অংশই মনে করছে এ বিপুল পরিমাণ অর্থের প্যাকেজটি যদি আমরা প্রেসিডেন্টের ডেস্কে পাঠাই তাহলে ভালো হবে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ দীর্ঘসময় ধরে অপেক্ষা করছে,” সোমবার ভোটের আগে এমনটাই বলেন এ রিপাবলিকান।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ও সিনেটের সংখ্যালঘু অংশের নেতা চাক শুমার বলেছেন, নতুন এ প্রণোদনা প্যাকেজ মার্কিনিদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় জরুরি অর্থ সহায়তায় ভূমিকা রাখবে।
করোনার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৭৫ বছর বা আরও বেশি বয়সীসহ জরুরি সেবাকর্মী যেমন দমকল বাহিনীর সদস্য, শিক্ষক এবং দোকানকর্মীদের ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এ সুপারিশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদ।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করার পাশাপাশি হাসপাতালগুলোতে এখন মডার্নার তৈরি দ্বিতীয় করোনা ভ্যাকসিন পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে টেনেসি রাজ্যের গভর্নর বিল লি সামাজিক জমায়েতবিষয়ক নতুন কিছু নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন। যদিও ওই রাজ্যে এখনও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টেনেসিতে করোনা রোগীদের সেবাদানকারী স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]