৪ মে ২০২৬

মানসিক রোগে ভুগছেন মাহিরা খান

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৯ এএম
মানসিক রোগে ভুগছেন মাহিরা খান

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:   পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান সবসময় তার গ্ল্যামার ও সাবলীলভাবে পর্দায় উপস্থিতির জন্য প্রশংসিত। ২০১৭ সালে শাহরুখ খান অভিনীত ‘রইস’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেকের পর তিনি ভারতেও সর্বাধিক পরিচিত। তবে তার সাফল্যের পেছনে ছিল এমন একটি বিষাদের গল্প, যা সম্পর্কে তিনি খুব কমই কথা বলেছেন। বলিউড এমন একটি ইন্ডাস্ট্রি, যেখানে কাজ করার স্বপ্ন অনেক অভিনয়শিল্পীই দেখেন। মাহিরাও তার বাইরে ছিলেন না। একসময় সুযোগও পান, তাও আবার বলিউড কিংখ্যাত শাহরুখ খানের সঙ্গে। কিন্তু তার স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় উরি হামলা। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের উরি শহরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডের সদর দপ্তরে চারজন ভারী অস্ত্রধারী হামলা চালায়। এ হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহত হন এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হন। ভারত সরকার দাবি করে, এটি পাকিস্তানি জঙ্গিদের কাজ। এ হামলার পর ভারত সরকার পাকিস্তানি অভিনয়শিল্পীদের ভারতে কাজ করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিপাকে পড়েন মাহিরা খান। মানসিক অস্থিরতায় ভুগতে শুরু করেন তিনি। কীভাবে সেই অস্থিরতা কাটিয়ে নিজেকে ঠিক রেখেছিলেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী সেটাই জানিয়েছেন। বলেছেন, ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়ে বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি (রইস) সিনেমাটি সবে শেষ করেছি এবং সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, তারপর হঠাৎ এই আক্রমণ (উরির ঘটনা) ঘটে। রাজনৈতিকভাবে, সবকিছু গোলমাল হয়ে যায়। ভারতের সঙ্গে, এটি সর্বদা রাজনৈতিক। কিন্তু এটি নিয়ে এত গোলমাল হতে পারে, তার আমার ধারণার বাইরে ছিল!’

তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে আমি ভয় পাইনি। কিন্তু আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ক্রমাগত টুইট করা হচ্ছিল। একটা পর্যায়ে আমি ফোন ধরতে ভয় পেতাম, এটা খুবই ভয়ংকর ছিল। একটা বিষয় আমাকে কষ্ট দিচ্ছিল, আমি এটির (রইস) প্রচারের জন্য ভারতে যেতে পারব না। তবে আশা করেছি, এটি আমার দেশে মুক্তি পাবে। কারণ আমি জানতাম আমাদের দেশের (পাকিস্তান) দর্শকরা এটি দেখতে ভিড় করবে, কারণ সে (শাহরুখ খান) এখানে (পাকিস্তান) খুবই জনপ্রিয়।’ মাহিরা আরও বলেন, ‘ওই ঘটনা আমার ভেতরে লুকিয়ে থাকা উদ্বেগ এবং বিষণ্নতাকে ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছিল। সে সময়টা আমার জন্য কঠিন ছিল। আমি আক্রমণের শিকার হব, এমনটাই মনে হচ্ছিল সবসময়। এটা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, আমি ক্রমশই হতাশ হয়ে পড়ছিলাম। বিষণ্নতা গ্রাস করছিল আমাকে।’ ‘রইস’ মুক্তির পর মাহিরাকে নিয়ে ভারতীয় দর্শকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে সেসময়। এ বিষয়টিও অভিনেত্রীকে আরও বেশি কষ্ট দিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তাদের চ্যানেলগুলোতে (ভারতীয় চ্যানেল) খারাপ টুইট এবং মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে আমাকে নিয়ে। সেসময়টা ছিল যখন আমার বিশ্বাস একটু ভেঙে পড়েছিল এবং আমি এতটাই তীব্র উদ্বেগে ভুগছিলাম যে, একদিন আমার প্যানিক অ্যাটাক হয়েছিল এবং আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম।’ এ ঘটনায় মাহিরাকে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সেই প্রথমবার আমি থেরাপির জন্য গিয়েছিলাম। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি, কারণ আমি বেশ কয়েকজন থেরাপিস্টের কাছে গিয়েছিলাম। যদিও আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম, কারণ আমার পরিবার এবং বন্ধুরা আমাকে সমর্থন করেছিল।’ মাহিরা খান স্বীকার করেছেন, ওই ঘটনার পরবর্তী ৬/৭ বছর তিনি ওষুধের মাধ্যমে মানসিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গিয়েছিলাম এবং তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা পরে সবকিছু নিয়ে কথা বলব, তবে আমার আপনাকে জানাতে হবে যে আপনার প্যানিক ডিপ্রেশন আছে।’ এই প্রথম আমি এটা বলছি; আমি জানি না আমার উচিত কিনা। ছয়-সাত বছর ধরে আমি অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্টস খাচ্ছি। আমি খুব অন্ধকার জায়গায় চলে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেছি।’

সেই অসুস্থতা এখনো অভিনেত্রীকে ছাড়েনি। এখনো তিনি নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। জানিয়েছেন, অসুস্থতা তাকে এতটাই গ্রাস করেছিল যে, বিছানা থেকেও দিনকয়েক উঠতে পারেননি অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘গত বছর, আমি বিছানায় ছিলাম। আমার খুব ভালো করে মনে আছে, আমি বাথরুমে যাওয়ার জন্য বিছানা থেকে উঠতেও পারিনি। আমার মনে আছে আমি প্রার্থনা করেছিলাম, ‘আল্লাহ, আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যদি তুমি আমাকে এতটুকু আশা বা আলো দেখাও, আমি তা গ্রহণ করব, এবং আমি তা নিয়ে দৌড়াব।’ আর যখন তিনি তা করলেন এবং যখন আমি আবার ওষুধ খেতে শুরু করলাম, তখন আমার মনে হল, আমি হাসতে পারছি, হালকা বোধ করতে পারছি।’ অভিনেত্রী এ ধরনের রোগীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, ‘ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন বাস্তব, ঠিক অন্য যে পকোনো শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতার মতো। আমাদের এটিকে সময়মতো সঠিকভাবে চিকিৎসা করা উচিত।’

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি