মান্না ও তারেক রহমানের আলোচনার প্রসঙ্গ তুললেন শেলী
চিত্রনায়ক মান্না ও তারেক রহমান।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশে ফিরে হলেন ভারমুক্ত—বিএনপির চেয়ারম্যান। মা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোককে শক্তিতে পরিণত করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে অংশ নিয়ে হলেন এমপি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তারেক রহমান।
সব কিছু যেন সতেরোর বৃত্তে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষণজন্মা নায়ক মান্নার মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে পড়ে। যদিও এ ছবিটি এর আগে গত ডিসেম্বরে তারেক রহমান দেশে ফেরার পর নায়ক মান্নার সঙ্গে সাক্ষাতের পুরোনো ছবিটি ভাইরাল হয়।
সেই ছবিতে দেখা যায়, দুজনই হাসিমুখে পরস্পরের দিকে তাকিয়ে কথা বলছেন, হাত বাড়িয়ে কুশলবিনিময় করছেন। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে ছবিটি আবারও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। গতকাল সারা দিনই ছবিটি চলচ্চিত্রবিষয়ক বিভিন্ন পেজে শেয়ার হয়েছে। ফলে পুরোনো সেই মুহূর্ত ঘিরে কৌতূহল বেড়েছে।
পুরোনো একটি ছবি কখনো কেবল একটি মুহূর্ত ধরে রাখে না। ধরে রাখে সময় ও প্রেক্ষাপটও। সেই ছবিতে রাজনীতির এক পরিচিত মুখের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন জনপ্রিয় এক নায়ক—যিনি মূলত অভিনয়েই থাকতে চেয়েছিলেন। সময়ের স্রোতে কিছু মুহূর্ত ইতিহাসের অংশ হয়ে যায়; ছবিটি যেন তেমনই এক নীরব সাক্ষী।
এ বিষয়ে একটি গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে প্রয়াত মান্নার স্ত্রী শেলী মান্না বলেন, ছবিটি অনেক আগের। আমাদের কাছেও রয়েছে। হঠাৎ করেই দেখছি সামাজিক মাধ্যমে ঘুরছে। সেদিন মান্নার সঙ্গে তারেক রহমানের হঠাৎ দেখা হয়। সেই সময় মান্না বলেছিলেন— তার অভিনয়ের প্রশংসা করেছিলেন তারেক রহমান। মূলত অভিনয়, দেশ—এসব নিয়েই কথা হয়েছিল। তারকাদের রাজনীতিতে এসে দেশের সেবা করার প্রসঙ্গও উঠেছিল।
ছবিটি ২০০২ সালের পরের কোনো একসময়ের। তখন বিএনপি ক্ষমতায় ছিল। পহেলা বৈশাখের একটি অনুষ্ঠানে রমনার বটমূলে বর্ষবরণ আয়োজনে গিয়েছিলেন অমর নায়ক মান্না। সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়।
শেলী বলেন, মান্না তো সেভাবে রাজনীতি করতেন না, অভিনয় নিয়েই থাকতেন। সেদিন অতিথি হয়ে গিয়েছিলেন। তারেক রহমান আন্তরিকভাবে কথা বলেছিলেন। সিনেমা আর দেশের রাজনীতি নিয়েই আলাপ হয়। আমাদের পরিবার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আমরা খুব আগ্রহী ছিলাম না। আমিও সরকারি চাকরি করতাম। তবে মান্না তার সম্পর্কে ইতিবাচক কথাই বলেছিলেন।
উল্লেখ্য, নায়ক মান্না ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৩ বছর বয়সে প্রয়াত হন। তবে পর্দার সেই আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, সংলাপ ও কথা বলার ভঙ্গি আর দর্শকনির্ভর জনপ্রিয়তা আজও তাকে স্মরণীয় করে রেখেছে। ১৯৬৪ সালের ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন এ ক্ষণজন্মা। তার আসল নাম সৈয়দ মোহাম্মদ আসলাম তালুকদার।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাস করে মান্না ঢাকা কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। ১৯৮৪ সালে তিনি এফডিসির নতুন মুখের সন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আসেন। নায়করাজ রাজ্জাক মান্নাকে প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। ‘তওবা’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তার। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে সেরা নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন মান্না।
অভিনয়জীবনে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন মান্না। তার সিনেমায় বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের কথা উঠে এসেছে বারবার। মান্না অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘দাঙ্গা’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘আম্মাজান’, ‘আব্বাজান’, ‘বীর সৈনিক’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘খলনায়ক’, ‘রংবাজ বাদশা’, ‘সুলতান’, ‘ভাইয়া’, ‘টপ সম্রাট’, ‘চাঁদাবাজ’, ‘ঢাকাইয়া মাস্তান’, ‘মাস্তানের উপর মাস্তান’, ‘বিগবস’, ‘মান্না ভাই’, ‘টপ টেরর’, ‘জনতার বাদশা’, ‘রাজপথের রাজা’, ‘এতিম রাজা’, ‘টোকাই রংবাজ’, ‘ভিলেন’, ‘নায়ক’, ‘সন্ত্রাসী মুন্না’, ‘জুম্মান কসাই’, ‘আমি জেল থেকে বলছি’, ‘কাবুলিওয়ালা’ ইত্যাদি। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি