লোকসভা আসন নিয়ে মোদির কাছে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের ৩ দাবি
থালাপতি বিজয় ও নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: ভারতের লোকসভায় আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় (থালাপতি বিজয়)।
লোকসভার মোট আসনসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ রাখার পাশাপাশি রাজ্যগুলোর বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আগামী লোকসভা ও পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য এক তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানান বিজয়। চিঠির সঙ্গে তামিলনাড়ু বিধানসভায় বুধবার গৃহীত একটি প্রস্তাবের অনুলিপিও পাঠানো হয়েছে।তামিলনাড়ু বিধানসভায় গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয়েছে, আগামী জনগণনার পর জনসংখ্যার ভিত্তিতে লোকসভা আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো বড় ধরনের রাজনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব রাজ্য দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তাদের প্রতি এটি অন্যায় হবে বলে মনে করছে তামিলনাড়ু।
বিজয় তার চিঠিতে বলেন, লোকসভার মোট সদস্যসংখ্যা স্থায়ীভাবে ৫৪৩ নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রতিটি রাজ্যের জন্য বর্তমানে যে সংখ্যক লোকসভা আসন নির্ধারিত রয়েছে, সেটিও অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার বিষয়টি বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।তামিলনাড়ুর বিধানসভায় আলোচনার সময় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, জনসংখ্যার নতুন পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর লোকসভা আসন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে জনসংখ্যা বেশি এমন উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর আসন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিধানসভায় এ প্রসঙ্গে তামিলনাড়ুর অতীতের উদাহরণও তুলে ধরা হয়। সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে ১৯৬৭ সালে রাজ্যটির লোকসভা আসন ৪১ থেকে কমে ৩৯ হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
তামিলনাড়ুর যুক্তি, ১৯৭১ সালের পর জনসংখ্যার পরিসংখ্যানকে ভিত্তি করে নতুন করে লোকসভা আসন নির্ধারণ করা হলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
তামিলনাড়ু সরকারের বক্তব্য, যে রাজ্যগুলো জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, নতুন আসন পুনর্বিন্যাসে তাদের পুরস্কৃত করার বদলে যদি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যায়, তাহলে তা ন্যায্য হবে না।এদিকে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন বিজয়।
আগামী লোকসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণ কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।চিঠিতে বিজয় তামিলনাড়ু বিধানসভার প্রস্তাবটি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সামনে আসার পর লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি ফের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।
বিজয়ের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে লোকসভার মোট আসন ৫৪৩-এ স্থায়ী করা, রাজ্যভিত্তিক বর্তমান আসন বণ্টন অপরিবর্তিত রাখা এবং আগামী লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।এখন মূল নজর কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানের দিকে। কারণ লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নটি শুধু নির্বাচনী সীমানা পরিবর্তনের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্যও জড়িয়ে রয়েছে। সূত্র: যুগান্তর
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
তেল ও গ্যাসের দাম কমানোই এখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম লক্ষ্য: ভ্যান্স
সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগারে হুতি বিদ্রোহীদের ড্রোন হামলা
সঙ্গীত একাডেমি