লক্ষ্মীপুরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু ও সরকারি জমি আত্নসাতের চেষ্টার অভিযোগ

আব্দুল মালেক নিরব,লক্ষ্মীপুর থেকে : লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলর উত্তর জয়পুর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে তার নিজ এলাকা ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের আব্দুল্লাপুর গ্রামে সংখ্যালঘু ও পানি উন্নয়ণ বোর্ডের জমি জাল খতিয়ান তৈরী করে আত্নসাতের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবার এই দুর্নীতিবাজ ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের সহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানাগেছে। জানাযায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ই্ধসঢ়;উনিয়নের শরিফপুর গ্রামের তরণী কান্ত শীলের পুত্র রসরাজ শীল ওয়ারিশ ও দখল সূত্রে একই ইউনিয়নের আব্দুল্যাপুর মৌজার জেলা জরিপি ১৩০ নং এবং এম আর আর ১৪৮ নং এবং হালে ৪০৬ খতিয়ানের সাবেক ৬১১ও ৬১২ নং এবং হালে ১৪৭৯ ও ১৪৮৫,১৪৮৬ দাগে মোট ৫১ শতাংশ জমিনের মালিক। বিগত আর এস জরিপে মালিক ও দখল কারের নামে যথারীতি মাঠ খতিয়ান রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে একই এলাকার বাসিন্দা মুনছুর আহাম্মদের পুত্র ও জেলা এল এ শাখার কর্মচারি ও বর্তমানে উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের ভুমি কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন উক্ত জমি সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষে বর্তমান মালিক ও দখলকার রসরাজ শীলকে বিবাদী করে ৩০ ধারায় আপত্তি মামলা রুজু করে। কিন্তু তার উক্ত মামলা শুনানী আন্তে খারিজ হয়ে যায়। পরবর্তীতে উক্ত শাহাদাৎ হোসেন আবারো একই ভাবে বিধি মোতাবেক ৩১ ধারায় আপীল মামলা করে। আবারো মামলাটি আপীলে খারিজ হয়ে যায়। যথারীতি রসরাজ শীলের নামে খতিয়ান বহাল থাকে। অথচ এই মামলা করার জন্য তার কোন এখতিয়ার ও ছিলনা।
পরবর্তীতে শাহাদাত হোসেন ভুমি জরিপ অফিসের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারিদের ম্যানেজ করে রসরাজ শীলের ৫১ শতাংশ জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ও দখলীয় ৩০ শতাংশ জমি সহ মোট ১০৫ শতাংশ জমি উক্ত খতিয়ানে যুক্ত করে খতিয়ানের ৩টি দাগের পরিবর্তে ০৭টি দাগ উল্যেখ করে নিজ নামে খতিয়ান খুলে ছাপানোর জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে। যে শাহাদাত হোসেন নিজে সরকারের নামে উক্ত জমি রেকর্ড ভুক্ত করার জন্য ৩০ ও ৩১ ধারায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন এবং মামলায় ৫১ শতাংশ জমি সরকারি খাস খতিয়ান ভুক্ত করার দাবী জানান।
সেই শাহাদাত হোসেন কি করে উক্ত খতিয়ানে সরকারি পানি উন্নয়ণ বোর্ডের ৩০ শতাংশ জমি সহ ১০৫ শতাংশ জমি নিজ নামে রেকর্ড ভুক্ত করেন। পরবর্তীতে ছাপা খতিয়ান পাওয়ার পর রসরাজশীল জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ৫৩৩ ও ৫৩৪ ধারা মোতাবেক মিছ মামলা নং ৫৮৯১ দায়ের করে খতিয়ান সংশোধন করেন। মিছ মামলার প্রেক্ষিতে রসরাজশীলকে আদালত তামিল খতিয়ানও প্রদান করেন। পরবর্তীতে আবারো নোয়াখালী জোনাল থেকে খতিয়ান বহি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করার সময় শাহাদাত হোসেন সংশোধিত খতিয়ানের পাতা অপসারণ করায়ে পূর্বের তার নামের খতিয়ান যুক্ত করেদেন। কিন্তু রসরাজ শীলের মিছ মামলাটি অক্ষুন্ন থেকে যায়। এ দিকে রসরাজ শীল উক্ত খতিয়ানের সহিমুহুরী নকল সংগ্রহ করে দেখতে পান রসরাজের পরিবর্তে শাহাদাত হোসেনের নাম যথারীতি বহাল তবিয়তে রয়েছে। এবং তিনটি দাগের পরিবর্তে আবারো পূর্বের ৭টি দাগ যাহার মধ্যে পানি উন্নয়ণ বোর্ডের জমিও ব্যক্তি শাহাদাতের মালিকানায় রেকর্ড ভুক্ত রয়েছে।
পরবর্তীতে রসরাজ শীল আবারো ১২ জুলাই ২০১৮ ইং করনিক ভুল সংশোধনের জন্য একটি আবেদন করেন। যাহা স্বারক নং ৫৫১মুলে জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখায় নথিভুক্ত হয়। পরবর্তীতে তা গত ২৮.০৮.২০১৮ ইং সহকারি কমিশনার ভুমি লক্ষ্মীপুরের নিকট প্রেরণ করলে তিনি তা প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনকে দায়িত্ব প্রদান করেন। বাদী উক্ত দেলোয়ারের সাথে বারবার দেখা ও প্রতিবেদন দেওয়ার তাগিদ প্রদান করলেও ৪৫ দিনের মধ্যে বিচার করার বাধ্য বাধকতা থাকা সত্বেও ১২০দিন পর শাহাদাত হোসেন দ্বারা প্রভাবিত হয়ে রসরাজ শীলের বিপক্ষে ২১১ নং স্বারকে প্রতিবেদন প্রদান করেন। পরবর্তীতে রসরাজ শীল উক্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ২৪.১২.২০১৮ ইং অনাস্থা প্রদান করে একটি আবেদন করলে তা সদর উপজেলা ভুমি অফিসের কানুনগোকে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু তিনি অদ্যবদি উক্ত তদন্ত প্রতিবেদন না দিয়ে গড়িমশি করে যাচ্ছেন। ফলে বাদী রসরাজ শীল ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি