লক্ষ্মীপুরে সাংসদ পাপুলের একি কান্ড!

আব্দুল মালেক নিরব, লক্ষ্মীপুর থেকে : বিতর্কিত আচরণের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের নতুন এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল। একসপ্তাহ আগে শিক্ষকের দাঁড়িয়ে থাকা ও নিজে চেয়ার বসে থাকার পর শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠে অনুষ্ঠান করেছেন এমপি পাপুল। এ নিয়ে জেলার সবত্রই সমালোচনা চলছে।
গত শুক্রবার (১৮ জানুয়ারি) বশিকপুর ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণের একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের মঞ্চ তৈরী করা হয় শীহদ মিনারে। এসময় শহীদ মিনারে এমপি পাপুল এবং স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ সবাইকে জুতা পায়ে বসে থাকতে দেখা যায়। এ অনুষ্ঠানের একটি ছবি নিয়ে লক্ষ্মীপুরবাসীর মাঝে এবং সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে লক্ষ্মীপুরের সাংবাদিক মো: আক্তার আলমের ফেসবুকে একটি পোস্টে লক্ষ্মীপুর জর্জ কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট রাসেল মাহমুদ মান্না মন্তব্য করেন- ‘ টাকা থাকলে এমপি হওয়া যায় আর শহিদ মিনার ও শিক্ষকের গুরত্ব বুঝতে হলে প্রকৃত মানুষ হতে হয়। টাকা থাকলেই মানুষ হওয়া যায় না।’ এছাড়া অনেকে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অবাকও হয়েছেন। একজন সাংসদ কীভাবে জুতা পায়ে শহীদ মিনারে বসে অনুষ্ঠান করেন।
এ বিষয়ে এমপি পাপুলের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। তার পিএস বশিরকে ফোন দিলে জানান- তিনি স্যারের (এমপি) সাথে নেই। আর স্যার (এমপি) মোবাইল রেখে গেছেন। এর আগে ১১ জানুয়ারি শুক্রবার রায়পুরে ‘শীতবস্ত্র বিতরণ ও এমপি পাপুলকে স্থানীয় আঃলীগের সম্বর্ধনা’ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য এমপি পাপুল হেলিকপ্টারে অবতরণ করেন রায়পুর মাচ্চের্ন্টস একাডেমি স্কুল মাঠে। এ সময় তারা অই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে গেলে প্রথা অনুযায়ী সন্মানজনকভাবে এমপি পাপুল প্রধান শিক্ষকের চেয়ারেই বসেন। পাশেই বসেন সাবেক সাংসদ ও কেন্দ্রীয় আ:লীগ নেতা হারুনুর রশিদ, মোঃ আলী খোকনসহ অন্যান্য নেতারা। কিন্তু বসার জন্য জায়গা হয়নি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর। সবাই বসে থাকলেও দীর্ঘক্ষন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বিদ্যালয়ের এই প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে জেলাবাসীর মাঝে ক্ষুব্ধভাব ফুটে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এর সমালোচনা শুরু হয়।
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলীর দাবী, ‘‘অতিথিরা ‘ভিআইপি পারসন’ তাই চেয়ারে বসতে দিয়ে সম্মান জানিয়েছি। মিছেমিছি সমালোচনার ঝড় বইছে-হুদাই চিল্লায়।’’ তবে এলাকার মানুষ প্রশ্ন তুলছেন এমপির বিবেকবোধ নিয়ে। একজন প্রধান শিক্ষককে দাঁড় করিয়ে রেখে তিনি কীভাবে চেয়ার বসে থাকেন!

উল্লেখ্য, এমপি পাপুল একজন কুয়েত প্রবাসী এবং ব্যবসায়ী। রাজনীতির সাথে জড়িত না থাকলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশায় তৎপর হয়ে উঠেন। মহাজোটের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি ও সাবেক এমপি মোঃ নোমানকে দল মনোনয়ন দিলে লক্ষ্মীপুর-২ থেকে কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন। এক পর্যায়ে নাটকীয়ভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান মহাজোটের প্রার্থী মোঃ নোমান। পরে একমাত্র প্রার্থী হিসাবেই আঃলীগ দলীয় প্রতিক ছাড়াই তাকে সমর্থন দেয়। এতে তিনি নির্বাচিত হন।
বিপি/আর এল
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি