
সুলতানা মাসুমা, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৫ ফুট জোয়ারের পানি ঢুকছে লক্ষ্মীপুর জেলার মেঘনা উপকূলীয় লোকালয়ে। গতকাল বিকেল থেকে উঁচু জোয়ারে পানির চাপে নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলসমূহ প্লাবিত হয়েছে। বিশাল মেঘনা নদী উত্তাল হয়ে উঠেছে। জোয়ারের ঢেউয়ের গর্জনে উপকূলীয় এলাকাসমূহে আতংক দেখা দিয়েছে। বাড়ি-ঘর রাস্তা-ঘাট জোয়ারের পানি ঢুকে পড়েছে। পুকুর-জলাশয় ও মাছের ঘের ডুবে গেছে।
জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। রামগতির রামদয়াল, বিবিরহাট, গাবতলী, আলেকজান্ডার, ওয়াপদাবাজার, উত্তর বালুর চর, ঠুয়ারচর এবং কমলনগরের লুধুয়া, খায়েরহাট, মাতাব্বর হাট, নাছিরগঞ্জ এলাকাসহ ৮ টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটের চলাচলরত ফেরিসহ জেলার সবধরনের নৌযানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস মোকাবেলায় লক্ষ্মীপুর জেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। জেলায় ১০৯ টি সাইক্লোন শেল্টার ও ১০০ টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ও পরে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ৬৬টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা, উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগের হটলাইন নম্বরগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু করা হয়েছে। জেলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ফোন নম্বর ০৩৮১-৬২৪৮৩। উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক মাইকিং প্রচারণা চালিয়ে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ গতকাল জানান, দুর্যোগ মুহূর্তে মেঘনা উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ২৭৯ মেট্রিক টন চাল, ২৪ লাখ টাকা, শিশু খাদ্যের জন্য ৯ লাখ ও গো খাদ্যের জন্য ১৩ লাখ টাকা মজুদ রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুর জেলা বঙোপসাগর ও মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। এ জেলার সদর, রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা মেঘনা নদী বেস্টিত। রামগতি ও কমলনগর থেকে মেঘনা নদী হয়ে বঙ্গোপসাগর কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে। এসব কারনে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ অঞ্চলটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
বিপি২৪/আর এল
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]