৪ মে ২০২৬

লালমনিরহাটে রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
লালমনিরহাটে রাস্তার কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

মোঃ মামুনুর রশিদ (মিঠু),লালমনিরহাট থেকে: সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার ও আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের অবহেলায় কাজ শেষ না করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের অভিযোগ দিলেও কর্ণপাত করছেন না উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। উল্টো ঠিকাদারকে দায়ী করছেন কর্মকর্তারা।

লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় নষ্ট হওয়া সড়কগুলো সংস্কার করতে ফ্লাড ডিজাস্টার ড্যামেজ রুলার রোড ইনফ্লাকচার ফান্ড (এফডিডিআরআরআইএফ) প্রকল্পের আওতায় বরাদ্ধ দেয় সরকার। লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলায় ১৭টি প্রকল্পের বিপরীতে ৪০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্ধ আসে গত অর্থবছরে। যা বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বুড়িরবাজার মহিষখোচা সংযোগ সড়কের ৫.০৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করতে বরাদ্ধ দেওয়া হয় ২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩৭২ টাকা। যার মধ্যে বুড়িরবাজারে একশ মিটার ও মহিষখোচা বাজারে ৫শ মিটার আরসি ঢালাই ধরা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদার আব্দুল হাকিম।

কিন্তু তার কাছ থেকে কমিশনে ক্রয় করে কাজ করছেন স্থানীয় ঠিকাদার ইকবাল হোসেন দাউদ। কাজটি শুরু থেকে স্থানীয়রা নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করে এলেও কর্নপাত করেননি উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আমিনুর রহমান। তিনি ঠিকাদার ইকবাল হোসেন দাউদের সাথে আতাত করে নিম্নমানের ইট, পাথর ও নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করেন। সড়কের উভয় পাড়ে ৩ ফুট মাটি দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হয়নি। ফলে কাজ শেষ না হতেই ৫ কিলোমিটারের এ সড়কটির বেশ কিছু স্থানে ভেঙে গেছে। সড়ক ডেবে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বেশ কিছু স্থানে। জোড়াতালি দিয়ে সড়কটির সংস্কার করলেও করা হয়নি দুই বাজারে ৬ শ মিটার আরসিসি ঢালাই।

এতেই কাজ সমাপ্ত করে চলে যান ঠিকাদার এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে শতকরা ৯৫ ভাগ কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে বিল পরিশোধ করেন। ফলে বাকী কাজ সমাপ্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে এবং ভেঙে যাওয়া অংশ মেরামত করতে ঠিকাদারকে চিঠি দিয়েও করাতে পারছেন না প্রকৌশলী অধিদপ্তর। আরসিসি ঢালাই না করায় দুই বাজারে যাতায়তকারীরা প্রায় সময় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটুপানি জমে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে বিক্রিত পণ্য। নিম্নমানের ইট ও পুরাতন বিটুমিন মিশ্রিত খোয়া ব্যবহার করায় কাজ শেষ না হতেই বিভিন্ন স্থানে সড়কটি ডেবে গেছে বলে এলাকাবাসী দাবী করেন।

চুক্তিপত্রের ঠিকাদার আব্দুল হাকিম বলেন, কাজটি ইকবাল হোসে দাউদের মাধ্যমে করছি। তবে এ বিষয়ে ইকবাল হোসেন দাউদ কোন কথা বলতে রাজি হননি। উপজেলা প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) আমিনুর রহমান বলেন, ঠিকাদার কাজ না করলে আমার কি করার আছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে দাবী করেন।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি