লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে মৃত্যূর মিছিল

মামুনুর রশীদ মিঠু, লালমনিরহাট থেকে: মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক। ১শ ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই আন্তর্জাতিক মহাসড়কটি লম্বালম্বি আকৃতির। এই সড়কের পাশে জেলার সবকটি উপজেলা। একই অপ্রশস্ত, তাতেই আবার খানা খন্দে ভরা। রয়েছে অসংখ্য বাঁক। ফলে মহাসড়কটিতে প্রায়-ই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত তিন মাসে এই সড়কে প্রাণ গেছে ১৭জনের। তবে দূর্ঘটনা হ্রাসে দিনের বেলায় বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল। এতে ব্যবসায়ী ও ট্রাক চালকরা ভোগান্তির শিকার হলেও কমছে না সড়ক দূর্ঘটনা। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, সড়কের বেহাল অবস্থা আর গাড়ির বেপরোয়া গতি-ই এর মূল কারণ। পথচারী আতাউল গণি বলেন, ‘সড়কটাতে চলায় যায় না, দুখ্যান গাড়ি কাটাকাটি করলে রাস্তা পাড় হওয়ায় মুশকিল’।
একই অভিযোগ তুলে মোর্শেদ রহমান জানান,‘ রাস্তাটার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত, মটর সাইকেল চালানো তো দূরের কথা রিক্সাতেই চলাফেরা করতে ভয় লাগে’। মাইক্রো চালক আবদুল মতিনের দাবি রাস্তায় অসংখ্য ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে।এদিকে সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাসে পুলিশের পক্ষ থেকে ট্রাফিক সাইন/বিল বোর্ড নির্মাণের পাশাপাশি দিনের বেলায় মহাসড়কে বন্ধ রাখা হয়েছে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল। ফলে রাতে বিরতিহীন ভাবে ট্রাক চলায় মহাসড়কে সাধারণের চলাচল অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। এতে হয়রানী ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন- ব্যবসায়ী, চালক ও পথচারীরা। ট্রাক চালক আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেন, দিনে তারা ট্রাক চালাতে পারেন না,আর রাতে পুলিশের নানা অযুহাতে চাঁদাবাজি ও হয়রানীর শিকার হন তারা।
আরেকচালক বাচ্চু শিকদারের দাবি, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়ই গাড়ি নষ্ট হয়ে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এছাড়াও বিভিন্ন পথচারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কটিতে তারা দূর্ঘটনার ভয়ে চলাচল করতে পারেন না। ট্রাকে দীর্ঘ সারি আর বেপরোয়া গতির জন্য রিক্সা, মটর সাইকেল, ইজি বাইক এমনকি পায়ে হেটে চলাচল করতেও ভয় পান তারা। দূর্ঘটনার আতঙ্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তাদের। তবে ভোগান্তি ও সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন লালমনিরহাট সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাহবুব আলম। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে চার লেন সড়কের কাজ শুরু হবে। এটি বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। তবে আগামী বর্ষা মৌসুমের কথা মাথায় রেখে এবং আপাতত সড়ক চলাচল নির্বিঘ করতে বেশ কিছু স্থানে সংস্কার কাজ চলছে।
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, সড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি কোনভাবে কাম্য নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে এরই মধ্যে জনসচেতনতা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য যে, গত তিন মাসের জেলার বিভিন্ন স্থানে কলেজ ছাত্র, মটর সাইকেল আরোহী, পথচারী, ইজি বাইক চালক ও যাত্রীসহ মোট ১৭জন প্রাণ হারিয়েছে। যদিও তা পুলিশের নথিভূক্ত মামলার তথ্য অনুযায়ী কিছুটা বেশি।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি