খোকন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নাকি কম্পিউটার আপারেটর
মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর এলজিইিডির নির্বাহী প্রকৌশলী কে? এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন মো. আসাদুজ্জামান। কিন্তু এলজিইডির আফিসে গেলে মনে হবে মাস্টার রোলে কর্মরত সামসুল হক খোকন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করছেন। সামসুল হককে মাস্টার রোলে কম্পিউটার আপারেটর হিসাবে নিয়োগ দিলেও তাকে টেলিফোন অপারেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি এলজিডিতে আগতদের বিভিন্ন ভাবে হেস্ত নেস্ত করছে। ভাব সাব দেখে মনে হবে তিনি নিজেই সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের নির্বাহী প্রধান (প্রকৌশলী) এর দায়িত্ব পালন করছেন। ঘন্টার পর ঘন্টা বার বার টেলিফোন দিলেও তিনি টেলি ফোন ধরেননা। আবার ভাগ্যক্রমে টেলিফোন ধরলেও প্রয়োজনীয় কথা শেষ হবার আগেই কেটে দেন।
এই দপ্তরের কোন প্রয়োজনীয় সরকারি মোবাইল বা টেলিফোন নম্বর উনার কাছে চাইলে উনার সরাসরি জবাব দিতে পারবোনা, আমি দিতে বাধ্য নয়। এই দপ্তরে জেলার বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাঠানো গুরত্বপূর্ণ চিঠিপত্র, বিজ্ঞাপন বিল তার কাছে জমা দিতে হয়।
কিন্তু আভিযোগ রয়েছে তার কাছে বিল বা চিঠি দিলে তিনি রুঢ় আচরন করেন। চিঠি বিলের প্রাপ্তি শিকার করতে চাননা। আবার প্রাপ্তি শিকারের স্বাক্ষর দিলেও সিল দিতে বললে হুমকি ধামকি দেন। আরো আভিযোগ রয়েছে শাসসুল হক খোকন এই আফিসে রাম রাজত্ব কায়েম করেছেন। এই আফিসে কয়েক জন কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতো আনসার সদস্যদের দিয়ে গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসী বাহিনী।
তার অপকর্মের কেউ প্রতিবাদ করলেই তিনি চেচিয়ে উঠেন। তার চেচানোর সাথে সাথে তার গঠিত সন্ত্রাস বাহিনী আগতকে ঘিরে ফেলেন। এর পর তাকে প্রথমে বিভিন্ন ভাবে হুমকী ধামকি দেওয়া হয়। এর পর সাদাপোশাকে আনসার বাহিনীর কয়েক জন সদস্য এসে বলে তারা আফিসের নিরাপত্তায় আছে। এরপর আগতকে বিভিন্ন ভাবে হেস্ত ন্যাস্ত করা হয়। হেস্ত ন্যাস্তর পর তাকে পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে বিভিন্ন হুমকী ধামকি সহ শারিরিক নির্যাতন করা হয়।
সুযোগ পেলে আগতর কাছে থাকা মূল্যবান ডকুমেন্ট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। আগতর ভাগ্য ভালো হলে এলজিইডির কোন সহৃদয় কর্মকর্তা এসে তাকে রক্ষা করে থাকেন। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানকে অভিযোগ দিলে সেই আগতর ভাগ্যে জুটে আরো দুঃখ। তিনি তাদের ডাকেন । তার পর তাদের সামনে বলেন কি করেছে।
তখন তারা আরেকবার সেই আগতকে লাঞ্চিত করে। হেস্তন্যাস্ত করেন। আর সামসুজ্জামান মিট মিটিয়ে হাসেন আর বলেন ওদের সাথে ওরম করলেন কেন? এলজিডির কর্মরত একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান আসার পর থেকে সামসুল হক খোকন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। তিনি এখানকার আনসার ও কর্মচারীদের সমন্বয়ে একটি দল গঠন করেছেন। সেই দল দিয়ে যাকে তাকে হেনস্ত করে। আমরাও বিপদে আছি কখন আমাদের না আপমান অপদস্ত করে।
এ বিষয়ে আভিযোগ দিয়ে কোন লাভ হচ্ছেনা। অভিযুক্ত সামসুল হক খোকন দাম্ভিকতার সাথে বলেন, আমি মেহেরপুরের ছেলে কি করবেন? কি ছিড়বেন? বেশি বাড়াবাড়ি করেননা। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে আভিযোগ দেবার কথা বললে তিনি বলেন চলেন স্যারের কাছে, দেখি কি ছিড়তে পারেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামানকে অভিযোগ দিলে সামসুল হক খোকনকে সমর্থ করেন। তার পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। তিনি অফিসের নিরাপত্তার আজুহাতও তুলেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি