৯ আগস্ট ২০২৬

খাসোগি হত্যাকান্ডের জন্য সৌদিকে খেসারত দিতে হবে: ট্রাম্প

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৭ পিএম
খাসোগি হত্যাকান্ডের জন্য সৌদিকে  খেসারত দিতে হবে: ট্রাম্প
নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সাংবাদিক জামাল খাসোগি হত্যার নির্দেশ যদি সৌদি নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তবে তাদেরকে চরম পরিণতি বরণ করতে হবে। জামাল খাসোগি সম্ভবত মারা গেছেন বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টিকে খুবই গুরুতর মনে করে। তবে এখনও আমরা জানতে চাই, তার ব্যাপারে সত্যিকারার্থে কি ঘটেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সৌদি আরব ও তুরস্ক সফর শেষে দেশে ফেরার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই প্রতিক্রিয়া জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সৌদি যুবরাজ সালমানের মিত্র ট্রাম্প এ নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চালালেও প্রথমবারের মতো খাসোগির মৃত্যুর সম্ভাবনার কথা জানালেন। খাশোগির অন্তর্ধানের ঘটনায় এতোদিন সৌদি আরবের পক্ষে সাফাই গাইলেও বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, খাশোগি মৃত বলেই আশঙ্কা তার। এ সাংবাদিককে হত্যার নির্দেশ যদি সৌদি নেতৃত্ব দিয়ে থাকে তবে তাদেরকে চরম পরিণতি বরণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও রিয়াদ ও আঙ্কারা থেকে ফিরে তদন্তের বিস্তারিত জানানোর পর এমন অবস্থান জানালেন ট্রাম্প।যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত সৌদি অনুসন্ধানী সাংবাদিক জামাল খাশোগি গত ২ অক্টোবর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিতে তুরস্কের ইস্তানবুল শহরের সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর আর বের হননি। সৌদি আরব অবশ্য বলছে, খাশোগি কনস্যুলেট ভবন থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তুরস্কের পক্ষ থেকে এর প্রমাণ চাওয়া হলে তা সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে রিয়াদ। তুরস্কের দাবি, তাদের তদন্তকারীদের হাতে নিশ্চিত প্রমাণ রয়েছে কনস্যুলেট ভবনের ভেতরে খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে। গত সপ্তাহে তুরস্কে আসা ১৫ সদস্যের একটি সৌদি দল এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ আঙ্কারার। ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পর সৌদি কনস্যুলেট ও কনসাল জেনারেলের বাসায় তল্লাশি চালাতে সক্ষম হয় তুর্কি পুলিশ। এসব জায়গা থেকে সংগ্রহ করা নমুনাগুলো খাশোগির ডিএনএ’র সঙ্গে মেলে কিনা তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খাশোগি নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসার পর মিত্র দেশ সৌদি আরবের ওপর সরাসরি দোষ চাপাতে চাইছিলেন না। সৌদি কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কিছু জানে না বলে বার বার বলতে দেখা গেছে তাকে। ঘটনার সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও সৌদি আরবের সঙ্গেকার বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়ে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাছাড়া এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সৌদি যুবরাজ এই ঘটনার কোনও কিছু জানার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্প বলেছেন যুবরাজ তাকে বলেছেন,‘এই ঘটনায় একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এরই মধ্যে শুরু করেছেন তিনি। আর আস্তে আস্তে তা বাড়ানো হবে।’ তবে এবার সেই ট্রাম্পও বলছেন, খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে বলেই আশঙ্কা করছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) খাশোগির পরিণতি কী হয়ে থাকতে পারে, তিনি মৃত বলে মনে করেন কিনা... এ ব্যাপারে ট্রাম্পের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমার কাছে তেমনই মনে হয়েছে। এটা খুব দুঃখজনক।’ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়া প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এর পরিণতি খুব চরম হতে হবে। আমি মনে করি এটা খুব খারাপ কাজ। তবে আসলেই কী ঘটেছে তা আমরা দেখব।’ সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সখ্যের ব্যাপারটি কারও অজানা নয়। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই মিত্রের একটি হলো সৌদি আরব। রয়েছে অস্ত্রবাণিজ্যের স্বার্থও। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ১১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহের সুযোগ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন,বাণিজ্যের প্রশ্নকে এই ঘটনার সঙ্গে জড়াতে চান না। ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সখ্যের খবরও বারবার আলোচনায় এসেছে। নিখোঁজ সাংবাদিক খাশোগিকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে তুলে ধরা একটি প্রতিবেদন সংক্রান্ত টুইট রিটুইট করেন ট্রাম্পপুত্রও। এদিকে তুর্কি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে অস্ট্রেলীয় এবিসি নিউজ জানায়, ইস্তানবুলের পার্শ্ববর্তী বেলগ্রাড জঙ্গলে কিংবা ইয়ালোভা শহরের একটি গ্রাম্য এলাকায় খাশোগির দেহাবশেষ পুঁতে রাখা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ইস্তানবুল থেকে ওই এলাকার দূরত্ব ৯০ কিলোমিটার। যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসিত জামাল খাশোগি সৌদি সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন। বিশেষ করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সংস্কার পরিকল্পনার বিরোধী তিনি। এক সময় সংবাদপত্র আল ওয়াতানের সম্পাদক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন খাশোগি। কাজ করেছেন একটি সৌদি টেলিভিশন চ্যানেলেও। ওয়াশিংটন পোস্ট ছাড়াও ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানগুলোতে কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন খাশোগি। সৌদি রাজপরিবারের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি