৫ মে ২০২৬

খালেদা জিয়ার ভোটে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ!

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
খালেদা জিয়ার ভোটে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ!
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আপিলে দণ্ড স্থগিত হলেও নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। নির্বাচনে অংশ নিতে হলে খালেদা জিয়াকে মুক্তির পরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল এ মন্তব্য করেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চের মঙ্গলবার এক আদেশের পর নিম্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভোটে অংশগ্রহণের পথ অনেকটাই আটকে গেল। সরকারের দুজন আইন কর্মকর্তা অবশ্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, একটা পথ অবশ্য আছে। সেটা হলো—আপিল বিভাগ থেকে যদি খালেদা জিয়া ভোটে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে দিকনির্দেশনা পান। কিন্তু সে জন্য তাঁর হাতে সময় খুবই কম। পাশাপাশি এই রায়ের ফলে শুধু খালেদা জিয়াই নন; প্রার্থী হিসেবে অযোগ্য হবেন সব দলের সাজাপ্রাপ্তরা, যাদের সাজা-দণ্ড স্থগিত হয়নি। আজ হাইকোর্ট বলেছেন, নিম্ন আদালতে দুই বছরের বেশি সাজা হলে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। দুর্নীতির দায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা ভোগ স্থগিত চেয়ে বিএনপির পাঁচ নেতার করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া রায়ে আদালত এ কথা বলেন। আদালত আদেশে বলছেন, সংবিধানের ৬৬(২) (ঘ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কারও দুই বছরের বেশি সাজা বা দণ্ড হলে সেই দণ্ড বা সাজার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। অবশ্য যতক্ষণ না আপিল বিভাগ ওই রায় বাতিল বা স্থগিত করে তাঁকে জামিন দেন। বিএনপির চেয়ারপারসন দুটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত, সাজা ভোগ বাতিল ও জামিন চেয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করেছেন। আর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় উচ্চ আদালত সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামীকাল বুধবার। মনোনয়নপত্র বৈধ না অবৈধ, তা জানা যাবে ২ ডিসেম্বর। এরপর নির্বাচন কমিশন ও উচ্চ আদালতে মনোনয়নপত্র বৈধতা নিয়ে আপিল করা যাবে। তবে সে জন্য আপিল বিভাগে খালেদা জিয়ার দণ্ড ও সাজা স্থগিত বা বাতিল এবং তাঁকে জামিন পেতে হবে। হাইকোর্টে আপিল করা বিএনপি এই পাঁচ নেতা হলেন, আমানউল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাব। এই পাঁচ নেতার নির্বাচনে অংশ নেওয়াও এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও তাঁর অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, রাজনীতি এবং নির্বাচন থেকে দূরে রাখার জন্যই খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় দণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ড স্থগিত না হলে সংবিধান অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার প্রার্থী হওয়া, না হওয়ার বিষয়টি আদালতের ওপর নির্ভরশীল। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমসহ কয়েকজন আইনজ্ঞও বলছেন, দণ্ডিত হওয়ায় খালেদা জিয়া এবারের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। সংবিধান অনুযায়ী, দুই বছরের বেশি কেউ দণ্ডিত হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারান। বিএনপির আইন সম্পাদক খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা এসব রাজনৈতিক মিথ্যা মামলায় কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। অবশ্য আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বলেন, দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত খালেদা জিয়াকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। বিপি/ইউএস
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি