খাগড়াছড়িতে পাহাড়িদের দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ৬

বাংলাপ্রেস অনলাইন : খাগড়াছড়ি শহরে পাহাড়িদের দুই দলের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন অন্তত ছয়জন। শহরের স্বনির্ভর বাজার এলাকায় শনিবার সকালের এই সংঘাতের জন্য পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফের দুটি পক্ষকে দায়ী করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সংঘর্ষে আহত তিনজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। নিহত কারও নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোলাগুলি শুরু হয়ে চলে একটানা প্রায় আধা ঘণ্টা। সকাল ৯টার পরও থেমে থেমে গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। বেলা ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কথা জানান খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান। তিনি বলেন, “এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। এলাকা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আছে।”
দুপুরে তিনজনকে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারা হলেন- সমর বিকাশ চাকমা (৫০), চকিরন চাকমা (৩৫) ও তিজিমনি চাকমা (২১)। এদের মধ্যে সমর বিকাশ খাগড়াছড়ি সদরের মৃত তাপস মোহন চাকমার ছেলে এবং পেশায় গাড়ি চালক। চকিরন খাহড়াছড়ি জেলার নারায়ন খইয়া এলাকার বলদা চাকমার ছেলে। তিজিমনি সদরের ফরেস্ট টিলা এলাকার শনিলাল চাকমার ছেলে এবং উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ছাত্র।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে বলেন, তিনজনেরই শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির জখম রয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত। আহতদের দেখতে খাগড়াছড়ির হাসপাতালে গিয়েছিলেন সংসদ সদস্য কুজেন্দ্রলাল ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আলী আহমদ খান।
কারা এই সংঘর্ষে ছিল- জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, “ইউপিডিএফের প্রসিত গ্রুপ ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) এই দুই পক্ষ গোলাগুলিতে জড়িত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।”
পার্বত্য শান্তিচুক্তিবিরোধী প্রসিত বিকাশ খিসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের প্রভাব বেশি খাগড়াছড়িতে। ভাঙনের পর দুটি দলের মধ্যে সংঘাত লেগে আছে। এবছরের ৩ জানুয়ারি খাগড়াছড়িতে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় ইউপিডিএফের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা মিঠুন চাকমাকে। এই হত্যার জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করেছিল ইউপিডিএফ। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি শহরের হরিনাথপাড়া এলাকায় ইউপিডিএফকর্মী দীলিপ কুমার চাকমাকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। তার চার দিন পর খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় সুভাষ চাকমা নামের আরেক ইউপিডিএফকর্মী খুন হন।
গত ১৬ এপ্রিল খাগড়াছড়ি শহরের পেরাছড়া এলাকায় সন্ত্রাসী হামলায় সূর্য বিকাশ চাকমা নামে একজন নিহত হন। তিনিও ইউপিডিএফের দুই অংশের বিরোধের কারণে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হয়। এরপর গত ৪ মে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙামাটি যাওয়ার পথে খুন হন ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিকের অন্যতম শীর্ষ নেতা তপন জ্যোতি চাকমা বর্মাসহ পাঁচজন।
বাংলাপ্রেস /এফএস
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আন্তরিকতার সঙ্গে দেশসেবা করতে নবীন সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি