কার সন্তান কোথায় বিয়ে করেছে, কে এ মাটির সন্তান- দেশবাসী জানে: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘কার সন্তান কোথায় আছেন, কোথায় বিয়ে করেছেন তা দেশবাসী ভালো করেই জানে। দেশের সন্তান কে, কারা এ মাটির সন্তান তা দেশবাসীর অজানা নয়। যাদের সন্তান দেশের বাইরে থাকেন, বাহিরেই বিয়ে করেছেন তারা হয়ে গেলেন দেশপ্রেমী।’
গত ৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ইতালির সফরের প্রথম দিন রোমের পার্কো দ্য প্রিন্সিপি গ্র্যান্ড হোটেলে ইতালি আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের মধ্যে আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আমি শেখ হাসিনা এ দেশের মাটির সন্তান। সেজন্যই মাটির প্রতি আমাদের টান আছে, কর্তব্যবোধও আছে। তাই আমিও আমার বাবার মতোই ত্যাগ স্বীকার করে জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের জন্ম বিহারে, এইচ এম এরশাদের জন্ম কুচবিহারে আর খালেদা জিয়ার জন্ম শিলিগুড়ি। জিয়া-এরশাদ-খালেদা তাদের একজনও এ মাটির সন্তান না।’
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার (১০ ফেব্রয়ারি) নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, ‘শুধু কি গোপালগঞ্জই বাংলাদেশ। গোপালগঞ্জের মাটিই বাংলাদেশের মাটি? বগুড়ার মাটি কি বাংলাদেশের মাটি নয়? ফেনীর মাটি বাংলাদেশের মাটি নয়? রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, খুলনার মাটি বাংলাদেশের মাটি নয়? একজন প্রধানমন্ত্রী যখন এমন উদ্ভট বক্তব্য দেন তখন বুঝতে হবে দেশ কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে।’
বাংলাদেশের উত্তোরণের ইতিহাসে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এই পরিবারটি (জিয়া পরিবার) শুধু চোখ রাঙানি কেন, ১/১১ এর সরকারের নানা ষড়যন্ত্রের মুখেও দেশ ছেড়ে যাননি। জিয়া এবং খালেদা জিয়াই সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। কেননা জিয়াউর রহমানই দেশ ও জাতির ক্রান্তিকালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ থেকে রক্ষা করেছিলেন। বিপন্ন গণতন্ত্রকে উদ্ধারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান অবিস্মরণীয়।’
বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে কোনও স্বৈরাচারের পরিণতি শুভ হয়নি। জনগণের ওপর জোর-জবরদস্তি করে ক্ষমতা দখলে রেখে কিছু দিনের জন্য যা ইচ্ছা করা যায়। কিন্তু তা চিরস্থায়ী নয়। স্বৈরশাসকদের করুণ দশা চোখের সামনে দেখে এবং জেনেও বর্তমান স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অবৈধ অনির্বাচিত নিশিরাতের সরকারের বোধোদয় হচ্ছে না। এ মুহূর্তে পুলিশ ও সন্ত্রাসী শক্তির ব্যবহার ছাড়া শেখ হাসিনার ঝুড়িতে আর কিছু নেই। তারা শুধু ক্ষমতায় থাকার জন্য গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, মানবাধিকার, মৌলিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার, ভোটাধিকার, স্বাধীনতার মূল চেতনা গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। দেশের মানুষকে তারা মানুষ মনে করে না। বিকট অমানবিকতা, পাকাপোক্ত নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতা আর বন্দুকের নলই হচ্ছে তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার উৎস। পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, আইন-আদালতকে নিজেদের দলীয় অস্ত্র বানিয়ে বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্নকরণের কর্মসূচি করেছে এই মিডনাইট সরকার।’
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিনা অপরাধে দুই বছরের বেশি হলো কারাবন্দি রেখে নির্যাতন করা হচ্ছে। জেলের ভেতর হত্যার চেষ্টা চলছে। ৭৫ বছর বয়সী দেশনেত্রীর অবস্থা চরম খারাপ। এখনই মুক্তি দিয়ে দ্রুত উন্নত সুচিকিৎসার ব্যবস্থা না করলে আমরা তাঁর জীবনহানির আশঙ্কা করছি।’
অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেছেন- তিনি বিশ্বের এক নম্বর অর্থমন্ত্রী। অর্থমন্ত্রীর এই কথা চিরকুটে লিখে রাখলাম। হাসতে হাসতে হার্টফেল করলে অর্থমন্ত্রী দায়ী থাকবেন। এই বক্তব্য অজ্ঞাতপ্রসূত নয়, রাজনৈতিক ধান্দাবাজিপ্রসূত। অর্থমন্ত্রী এই বক্তব্যের পরের দিনই আবার বলেছেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ’। মূলত: স্ব-স্বীকৃত এক নম্বর অর্থমন্ত্রী কামাল সাহেব দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েছেন। আসলে গণতন্ত্র ধ্বংসকারী মন্ত্রীদের মুখে এধরনের অবান্তর বক্তব্যই মানায়।’
রিজভী বলেন, ‘সরকার চলছে ২ লক্ষ কোটি ঋণের টাকায়। আপনাদের (আওয়ামী লীগ) দলের ছিঁচকে নেতাও এখন অবৈধ শত কোটি টাকার মালিক। তাদের শাস্তি হয় না। মামলা হলে দায়মুক্তি দেয় দুদক। আর যে নেত্রী একটি টাকাও তসরুপ করেননি, তাঁকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতার শিকার বানিয়ে সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে হত্যার জন্য জেলে রাখা হয়েছে। তিনি এদেশের ১৭ কোটি মানুষের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী। সেজন্য আওয়ামী লীগ প্রধান ও তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা হিংসা-প্রতিহিংসার আগুনে জ্বলছেন। গণমানুষের প্রাণাধিক প্রিয় দেশনেত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র বন্ধ করে মুক্তি দিন। অন্যথায় আপনাদের করুণ পরিণতির দিন ঘনিয়ে আসছে।’
দুই সিটি নির্বাচনের কারচুপির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন দলের বিজয় দেখানো হয়েছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় আওয়ামী পান্ডারা দিনে-দুপুরে দস্যুবৃত্তির মাধ্যমে কারচুপির যত রকমের কৌশল আছে সব প্রয়োগ করেছে এই ভোটে। এই সরকার বাদে নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও নগরবাসী এই কারচুপির ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলাফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের যৌক্তিক দাবি তুলে ধরেছেন।’
তিনি বলেন, ‘দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপির পক্ষ থেকে সিটি নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপির সকল প্রামাণ্য তথ্য-উপাত্ত জাতির সামনে তুলে ধরে ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছি। কিন্তু চোরে শোনে না ধর্মের কাহিনী। গণবিচ্ছিন্ন ক্ষমতাসীন দল সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পুনঃনির্বাচনের দাবি মামা বাড়ির আবদার। সিটি নির্বাচনে জালিয়াতি, ভোট কারচুপির কোনও সুযোগ নেই। কারচুপি বা ভোট জালিয়াতি হলে ভোট আরও বেশি কাস্ট হতো’।’
এসময় তিনি ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি মিস্টার ওবায়দুল কাদের সাহেবকে বলবো- আপনি ভোট কারচুপির এমনই মেকানিজম করেছিলেন যে, আপনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। আপনার সুস্থতা কামনা করি, কিন্তু জালিয়াতির মেশিন ইভিএম দিয়ে ভোটারদের যেভাবে সর্ষে ফুল দেখিয়েছেন সেজন্য আপনাকে নিয়ে ভোটাররা কি ভাবছেন সেটি একটু বোঝার চেষ্টা করবেন। বারবার অসুস্থ হওয়ার পরেও আপনি মিথ্যার ফেরিওয়ালাই থেকে যাচ্ছেন। সৃষ্টিকর্তার কথা বিবেচনা করে অন্ততপক্ষে কিছুটা সত্য কথা বলার চেষ্টা করুন।’
এসময় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম ও কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
আমার জানাজা পড়ানোর জন্য ওয়াহাবি বা জামায়াতের প্রয়োজন নেই: ফজলুর রহমান
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি