৪ মে ২০২৬

কানে ইয়ারবাড ব্যবহারে হতে পারে যেসব ক্ষতি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:১৭ পিএম
কানে ইয়ারবাড ব্যবহারে হতে পারে যেসব ক্ষতি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার করলে কানের ভেতরের অত্যন্ত সংবেদনশীল শ্রবণ কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর ফল হিসেবে ধীরে ধীরে স্থায়ী শ্রবণশক্তি হ্রাস, এমনকি টিনিটাসের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে কথা বলা, যাতায়াতের সময়, শরীরচর্চা কিংবা ঘুমানোর আগে ফোন স্ক্রল—প্রায় সব ক্ষেত্রেই ইয়ারবাড আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে কতক্ষণ ও কত জোরে শব্দ শোনা হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতনতা অনেকেরই নেই। আধুনিক সময়ে শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অতিরিক্ত সময় ধরে ও বেশি ভলিউমে ইয়ারবাড ব্যবহার।

সাধারণ স্পিকারের তুলনায় ইয়ারবাড সরাসরি কানের ভেতরে বসে শব্দ পৌঁছে দেয়। ফলে দীর্ঘক্ষণ উচ্চ শব্দে গান বা কথা শোনার কারণে কানের ভেতরের ‘হেয়ার সেল’ নামের সূক্ষ্ম শ্রবণ কোষ ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এই কোষগুলো একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে আর পুনরুদ্ধার হয় না। এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হওয়া, অথবা ভিড়ের মধ্যে কথা শুনতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী শ্রবণ সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

শুধু বেশি ভলিউম নয়, কম শব্দেও দীর্ঘক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহারে কানের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। জিম, বিমান বা ব্যস্ত সড়কের শব্দ ঢাকতে গিয়ে অনেকেই অজান্তেই ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এতে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে জোরে শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক শব্দ কম মনে হতে থাকে, ফলে আরও বেশি ভলিউমে শোনার প্রবণতা তৈরি হয়।

ইয়ারবাডের অতিরিক্ত ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘ সময় একটানা শব্দ শোনার কারণে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এর ফলে মানসিক চাপ, ক্লান্তি, বিরক্তি এবং মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। নীরবতা এড়িয়ে চলার অভ্যাস মানসিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যদিও মানসিক পুনরুদ্ধারের জন্য নীরবতা অত্যন্ত জরুরি।

এছাড়াও দীর্ঘক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহারে কানের ভেতরে তাপ ও আর্দ্রতা জমে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস সহজে জন্মাতে পারে, যা কানে জ্বালা, ময়লা জমা, কান বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা বারবার সংক্রমণের কারণ হতে পারে এবং শ্রবণক্ষমতা আরও দুর্বল করে।

এই ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা ‘৬০/৬০ নিয়ম’ অনুসরণের পরামর্শ দেন। অর্থাৎ, একটানা ৬০ মিনিটের বেশি ইয়ারবাড ব্যবহার না করা এবং ভলিউম সর্বোচ্চ মাত্রার ৬০ শতাংশের মধ্যে রাখা—এই অভ্যাসই কানের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।

বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি