৪৭ বছর ধরে চলছে এই প্রথা
ঝড়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ কেন রুটি আর দুধ কিনে মজুত করেন?
রুটি আর দুধ কিনে মজুত
কৌশলী ইমা: যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জুড়ে বড় ধরনের শীতকালীন ঝড় আঘাত হানার আশঙ্কায় দক্ষিণ, মধ্য-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অনেক মুদি দোকানের তাক দ্রুতই ফাঁকা হয়ে যেতে শুরু করে।
শীতের ঝড়ের আগে মানুষ সাধারণত যে দুটি জিনিস সবচেয়ে বেশি কিনে রাখে, তা হলো রুটি ও দুধ, এই দুটি পণ্যের সংকটই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, মানুষ কেন বিশেষ করে এই দুই জিনিসের দিকেই ঝোঁকে? বিদ্যুৎ চলে গেলে দুধ তো সহজেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আর রুটিও খুব পুষ্টিকর কোনো খাবার নয়।
অ্যাকুওয়েদার জানায়, ঝড়ের আগে দুধ ও রুটি কেনার এই প্রবণতার শুরু ১৯৭৮ সালের 'গ্রেট ব্লিজার্ড'-এর সময়, যখন নিউ ইংল্যান্ডে ভয়াবহ তুষারঝড়ে মানুষ দিনের পর দিন ঘরে আটকে পড়েছিল এবং এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব দেখা দেয়।
তারপর থেকে এটি এক ধরনের স্ব-পরিপূর্ণ ভবিষ্যদ্বাণী বা আত্মপূরণকারী আশঙ্কায় পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে হাওস্টাফওয়ার্কস। মানুষ ভয় পায় দোকানে নষ্ট হওয়া পণ্যের ঘাটতি হবে, তাই আগে থেকেই কিনে জমায়। ফলে সত্যিই দোকানে রুটি ও দুধ শেষ হয়ে যায়, এতে সংকটের ভ্রম তৈরি হয়, আর আরও মানুষ তখন এগুলো কিনতে ছুটে যায়।
জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. জ্যানেট ফ্রিক ২০১৭ সালে ফোর্বস-কে বলেন, বিপদের মুখে পড়লে মানুষ সব সময় যুক্তিসংগত বা যৌক্তিক আচরণ করে না।
তিনি বলেন, আবহাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা বজ্রপাতে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নই, কিন্তু যদি এমন হয় যে রান্নাঘরের মজুত জিনিস দিয়ে এমন খাবার বানাতে হয় যাতে রুটি আর দুধ নেই এই ভাবনাতেই আমরা বেশি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি, তাহলে বরং কী মজুত করা উচিত?
নষ্ট হয়ে যায় এমন খাবার (যেমন দুধ, রুটি) না কিনে রেডি.গভ শীতকালীন ঝড়ের আগে যেসব খাবার রাখার পরামর্শ দেয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রস্তুত খাওয়ার মতো ক্যানজাত মাংস, ফল ও সবজি (সঙ্গে ক্যান খোলার যন্ত্র)
প্রোটিন বা ফলের বার, শুকনো সিরিয়াল বা গ্রানোলা, পিনাট বাটার, শুকনো ফল, ক্যানজাত জুস, নন-পেরিশেবল পাস্তুরিত দুধ, উচ্চ শক্তির খাবার, শিশুদের খাবার, আরামদায়ক/স্ট্রেস কমায় এমন খাবার ও প্রচুর পরিমাণে পানির বোতল
বিদ্যুৎ চলে গেলে খাবার নষ্ট হওয়া ঠেকাতে যতটা সম্ভব ফ্রিজ ও ফ্রিজারের দরজা বন্ধ রাখার পরামর্শও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
(*এই প্রতিবেদনটি বাংলা প্রেসের তৈরি। অনুমতি ছাড়া আমাদের বিষয়বস্তু, ছবি বা সম্প্রচার অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমে পুনঃপ্রকাশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ)।
বিপি/এসএম
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি