২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পালটা জবাব নিউইয়র্কের মেয়রের

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পালটা জবাব নিউইয়র্কের মেয়রের

বাংলাপ্রেস ডেস্ক:  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের কড়া সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি বলেছেন, ভাষণে ‘ভিত্তিহীন মিথ্যা’ ছড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরপরই এ কথা বলেন মামদানি।

নেতানিয়াহুকে নিয়ে মামদানি আগে থেকেই সমালোচনা করে আসছেন। ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। এর জেরে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে গেলে গ্রেপ্তার করা হবে বলে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মামদানি। যদিও নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের এখতিয়ার নিউইয়র্ক নগর কর্তৃপক্ষের নেই। তাই নেতানিয়াহুকে গ্রেফতার করতে মামদানি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এসব নিয়ে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে মামদানিকে সরাসরি আক্রমণ করেন নেতানিয়াহু। ৩৪ বছর বয়সী এই মুসলিম মেয়রকে ইহুদিবিদ্বেষী আখ্যা দেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, মামদানি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ইসরাইলের সমালোচনা করে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নিউইয়র্কে অনেক ইহুদি নিজেদের নিরাপদ মনে করেন না।

পরে এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর নিজের চালানো গণহত্যাকে বৈধতা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের ভাষণকে ব্যবহার করে আবার ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়িয়েছেন নেতানিয়াহু। মামদানির ভাষায়, তবে কোনো মিথ্যাই এই সত্যকে বদলে দিতে পারবে না যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে।

ভাষণে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেন নেতানিয়াহু। তার কথায়, ‘ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা।’ নেতানিয়াহুর ভাষণে মামদানির স্ত্রী রামা দুয়াজির কথাও আসে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের সমর্থন জানানো কিছু পোস্টে লাইক দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন দুয়াজি।

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় মামদানি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে এর কিছু আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। সেখানে নিজের সরকারি বাসভবনে একটি জলপাইগাছের চারা রোপণ করতে দেখা যায় মামদানিকে। গাজার কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজ করতেও দেখা যায়। ভিডিও শিরোনাম, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ যেন শান্তির হয়।’

মামদানিকে নিয়ে নেতানিয়াহুর সমালোচনা জাতিসংঘের মঞ্চ ছাড়িয়ে ইসরাইলেও চলছে। আগামী মাসে দেশটিতে নির্বাচন। এই নির্বাচন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টির জন্য বড় পরীক্ষা। নির্বাচন ঘিরে প্রচারে দলটি বিভিন্ন বিলবোর্ড ও পোস্টারে মামদানির ছবি ব্যবহার করছে। সেখানে মামদানির পাশাপাশি ইরান, তুরস্ক ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নেতাদের ছবিও ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ ছাড়া চলতি মাসের শুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। সেখানে নির্বাচনে তার পরাজয়ের সম্ভাবনা ঘিরে মামদানিকে উচ্ছ্বাস করতে দেখা যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও মামদানিকে আক্রমণ করে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন নেতানিয়াহু। সেখানে মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিরোধী দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ তোলেন তিনি।

মামদানির বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এসব আক্রমণের সমালোচনাও হচ্ছে। যেমন মামদানির মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ব্রুকলিন ও ম্যানহাটানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডার। জাতিসংঘে মামদানিকে নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিজের অপরাধের জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার বদলে নেতানিয়াহু যদি ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেন, তাহলে ইসরাইলি ও মার্কিন ইহুদিদের নিরাপত্তা আরও কমে যায়। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
বিপি>টিডি

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি