জাতিসংঘে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এরদোয়ানের তীব্র আক্রমণ
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যামূলক মানসিকতার’ অভিযোগ তুলে বলেন, মানবতা, দয়া ও বিবেকসম্পন্ন কেউই এমন পরিস্থিতির প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।
২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তাঁর বক্তব্যের সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল সভাকক্ষ থেকে বেরিয়ে যায় এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা করতালি দেন।
এরদোয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে যুদ্ধবিরতিতে অবদান রাখার পরও তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি কাঠামোর দ্বিতীয় ধাপ মেনে নিলেও ইসরায়েল গাজায় তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি। একই সঙ্গে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
গাজাকে ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ হিসেবে বর্ণনা করে এরদোয়ান বলেন, ‘আমরা এমন এক গণহত্যামূলক মানসিকতার মুখোমুখি, যা হত্যায় কখনো তৃপ্ত হয় না। মানবতা, দয়া ও বিবেকসম্পন্ন কেউই এর প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না।’
এরদোয়ান জাতিসংঘেরও কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ৮১ বছর আগে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংস্থাটি তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদানে জাতিসংঘ ‘অকার্যকারিতার’ মধ্যে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্র আব্বাসকে ভিসা না দেওয়ায় তিনি এবারের বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি। দুই বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা বলেও উল্লেখ করা হয়।
এরদোয়ান বলেন, আব্বাস সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারলেও গত বছরের মতো এবারও তারা একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলবেন।
এ ছাড়া ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও কথা বলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
গুতেরেসের বিদায়ী ভাষণে গাজা, এআই ও নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী আসনের তাগিদ
সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব
সঙ্গীত একাডেমি