২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গড়লেন বিরল ইতিহাস

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৪ এএম
জাতিসংঘে বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, গড়লেন বিরল ইতিহাস

 

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ভাষণ দিয়ে বিরল ইতিহাসের অংশ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ হলে ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় নেতা হিসেবে তিনি বিশ্ব সংস্থাটির এই গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণটি দেন সম্পূর্ণ বাংলায়। প্রায় ২১ মিনিটের বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।


নিউইয়র্ক সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে সাধারণ পরিষদ হলে তাঁর বক্তব্য শুরু হয়। ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চের সঙ্গে তাঁর পরিবারের দীর্ঘ সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বাবা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশ ও জনগণের পক্ষে কথা বলেছেন। আজ তিনিও দেশের জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিময় বিশ্ব গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে এই মঞ্চে দাঁড়িয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে বাবা, মা ও ছেলের—তিন সদস্যের একই পরিবারের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে এই মঞ্চে ভাষণ দেওয়ার একটি বিরল নজির তৈরি হয়েছে বলে বাংলাদেশের সরকারি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে তারেক রহমানের বাবা ও মা পৃথক সময়ে সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।


জাতিসংঘে জিয়াউর রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে এই পারিবারিক ধারার সূচনা হয় ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনের তৃতীয় প্লেনারি বৈঠকে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে তাঁর বক্তব্যের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে।

জিয়াউর রহমানের সেই ভাষণে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্ব পায়। তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, ৪৮তম অধিবেশনের ১৩তম প্লেনারি বৈঠকে তাঁর বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভাষণে গণতন্ত্র, শান্তি, উন্নয়ন, মানবকল্যাণ এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় উঠে আসে।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে মোট পাঁচবার বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। এর মধ্যে ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের সময় দুটি পৃথক সভায় তাঁর বক্তব্য ছিল।

চার দশকের বেশি সময়ের ব্যবধানে জাতিসংঘের মঞ্চে পরিবারের তিন সদস্যের এই উপস্থিতি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসেও একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য ও সহযোগিতার প্রশ্ন সামনে এনেছিলেন, ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরেন। আর ২০২৬ সালে তারেক রহমান তাঁর প্রথম ভাষণে সমসাময়িক বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরলেন।

এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরও একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ৮১তম সাধারণ পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

 

 

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি