১২ আগস্ট ২০২৬

হামলা আতঙ্কে ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নিরাপত্তা দাবি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
হামলা আতঙ্কে ৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, নিরাপত্তা দাবি

বাংলাপ্রেস ডেস্ক: বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ কার্যালয় ও উপকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরের আশঙ্কায় দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা বাড়াতে পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সই করা চিঠিটি বুধবার (১২ আগস্ট) আইজিপির কাছে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, জ্বালানিসংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনরোষ বাড়ছে এবং কিছু এলাকায় উপকেন্দ্র ও কার্যালয় হামলার শিকার হচ্ছে। তবে চিঠিতে এসব ঘটনার স্থান, সময় ও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়নি।

অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ ঘাটতি থাকছে ২ থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট। এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।

দেশে প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে সেবা দেয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। কিন্তু সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া বরাদ্দ গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করে। উৎপাদন ঘাটতির দায় তাদের না হলেও ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক চাপ গিয়ে পড়ছে স্থানীয় কার্যালয় ও কর্মীদের ওপর।

অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি হওয়া নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় পুলিশকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা হলে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে। পরিস্থিতি বোঝাতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে সমিতিগুলো বৈঠক করছে বলেও জানান তিনি।

একই আশঙ্কায় মঙ্গলবার রাত থেকে গোপালগঞ্জের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কার্যালয় ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন কেন্দ্রে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পৌর এলাকার ৩০ হাজারের বেশি গ্রাহকের জন্য প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। ফলে দিনে ১২ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মিলন সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুতের অভাবে ফ্রিজ, কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালানো যাচ্ছে না। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। শিক্ষিকা লাবনী অধিকারী বলেন, তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন।

গোপালগঞ্জ ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ পাওয়ায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

বর্তমান সংকটের প্রধান কারণ গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যাওয়া। পাওয়ার গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট বিকেলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৯ মেগাওয়াট। উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৩৮৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট।

গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে আগুন লাগার পর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট আংশিক চালু হলেও গ্যাসের সরবরাহ এখনো আগের অবস্থায় ফেরেনি।

বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দুর্ঘটনার আগে দৈনিক প্রায় ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পেলেও এখন পাচ্ছে প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ কোটি ঘনফুট। এর সঙ্গে বৃষ্টিতে কয়লা খালাস ও পরিবহনে সমস্যা, কয়েকটি কেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ভারতের আদানি কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়া সংকটকে আরও গভীর করেছে।

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। সরকার বিদ্যুৎ সরবরাহে নতুন কৌশল নিয়েছে এবং মালয়েশিয়া থেকে অন্তত একটি এলএনজি কার্গো পাওয়ার চেষ্টা করছে।

আইএসও ট্যাংকে এলএনজি আনার বিকল্পও বিবেচনায় আছে। তবে এটি সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। দেশীয় গ্যাসের উৎপাদনও রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

বিপি/টিআই

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি