গভীর রাতে চোখে ঘুম নেই, সমাধান যেভাবে
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হলেও অনেকে এর চেয়ে কম বা বেশি ঘুমান। এতে মানুষের স্বাস্থের পাশাপাশি মানসিক বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
তবে কিছু মানুষ আছেন, যারা ইচ্ছা থাকলেও ঘুমাতে পারেন না। কারো কারো ঘুম এলেও মাঝে বারবার ভেঙে যায়। অনেকে আবার অকারণে রাত জেগে কাটে। এই অনিদ্রা শুধু অস্বস্তিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতির কারণ।
তবে কী কারণে ঘুম আসে না এবং এর সমাধান কীভাবে করা যায়- জানিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা।
ঘুম না আসার কারণ
ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, নিদ্রাহীনতা যে কোনো কারণে বা কারণ ছাড়াই হতে পারে।
সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে আছে
পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা: পারিবারিক ঝামেলা, সামাজিক চাপ বা দুঃসংবাদ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। প্রিয়জনের অসুস্থতা বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও ঘুম কেড়ে নিতে পারে।
শারীরিক অসুস্থতা: পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি ঘুমের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে অসুস্থতা বা রাতে বিরক্ত করা ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করে।
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা: ‘সিজোফ্রেনিয়া’, ‘মুড ডিজঅর্ডার’ বা ‘ডিপ্রেশন’ এর মতো রোগে ঘুম না আসার সমস্যা দেখা দেয়।
বয়সজনিত কারণ: বয়স্কদের ক্ষেত্রে বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম- ঘুমের সমস্যা তৈরি করে।
জীবনযাত্রার অভ্যাস: অ্যালকোহলের অতিরিক্ত ব্যবহার বা হঠাৎ তা বন্ধ করা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়, পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া বা অতিরিক্ত চঞ্চলতা ঘুমের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
নিয়মিত ঘুমের জন্য করণীয়
নিদ্রাহীনতা কাটিয়ে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়তে কিছু সহজ কৌশল কার্যকর হতে পারে।
ঘুমের পরিমাণ এবং সঠিক সময়ের ঘুম নিয়ে ডা. ফারজানা রহমান দিনার পরামর্শগুলো হল-
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান। এতে জৈবিক ঘড়ি নিয়মিত হয়।
ঘুমের পরিবেশ তৈরি: ঘুমের আগে হালকা গান শুনুন, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং মনকে প্রফুল্ল রাখুন। চা, কফি বা উত্তেজক পানীয় এড়িয়ে চলুন।
হালকা ব্যায়াম: ঘুমের আগে হাত-পা বা শরীর শক্ত করে ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়ার ব্যায়াম করুন। এটি শরীরকে শিথিল করে।
মানসিক প্রশান্তি: বিছানায় শুয়ে বই পড়ুন বা পুরানো সুখের স্মৃতি মনে করুন। হতাশার চিন্তা এড়িয়ে নিজেকে বিজয়ী ভাবুন। উলটা গণনা (যেমন- ১০০০ থেকে ৯৯৯, ৯৯৮) মনে মনে করতে পারেন।
চিকিৎসকের পরামর্শ: দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
ঘুমের গুরুত্ব
নিয়মিত ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে, মানসিক চাপ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ঘুমের অভাবে মনোযোগ কমে, কাজের দক্ষতা হ্রাস পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই নিদ্রাহীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো সমাধান করা জরুরি।
ঘুমহীন রাতগুলো যেন জীবনের আনন্দ কেড়ে না নেয়, সেজন্য সঠিক রুটিন ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা উচিত।
বিপি>টিডি
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন
সঙ্গীত একাডেমি