গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ১১ দলের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: জুলাই অভ্যুত্থানের নৃশংসতার দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নসহ গণহত্যার বিচারের দাবিতে ৩৬ দিনের দীর্ঘ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল মিয়াজী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা প্রমুখ।
ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ১৪০০-এর বেশি মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছেন। কিন্তু বর্তমান সরকার গণআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণীত হলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এমনকি গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ থেকে সরে এসে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে এবং পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যাকাণ্ডসহ অতীতের সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতি পায়নি। তিনি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ উপেক্ষা করে জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জোটের পক্ষ থেকে আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী সেমিনার, চিত্র প্রদর্শনী, স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ, মানববন্ধন, বিভাগীয় সমাবেশ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মতো বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ২৭ জুন ময়মনসিংহে বিভাগীয় সমাবেশ; ১ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সেমিনার এবং গ্রাফিতি অঙ্কন; ৪ জুলাই রাজধানী ছাড়া সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ; ৬ জুলাই জাতীয় সংসদের সামনে শহীদ পরিবারের উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্পিকার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান; ৮ জুলাই জাতীয় সেমিনার; ১১ জুলাই রংপুরে, ১৮ জুলাই বরিশালে এবং ২৫ জুলাই সিলেটে বিভাগীয় সমাবেশ। এছাড়া ২০ জুলাই নারীদের অবদান শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা; ২৩, ২৪ ও ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ; ৩১ জুলাই দেশব্যাপী মসজিদে দোয়া ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা এবং সর্বশেষ ৫ আগস্ট রাজধানীসহ সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ জোর দিয়ে বলেন, এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়; বরং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তিনি দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
বিপি/কেজে
আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন
সঙ্গীত একাডেমি