
বাংলাপ্রেস ডেস্ক: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা করেছিল তার অফিসেরই সাবেক মালি রবিউল ইসলাম (৪৩)। ওই হামলার দায়ও স্বীকার করেছে সে। এনিয়ে র্যাব ও পুলিশের কাছে দুজন ওই হামলার দায় স্বীকার করল। রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার মোড় ঘুড়ানো এ তথ্য জানান পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য।
ডিআইজি বলেন, অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত তা শনাক্তের জন্য আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইন্সপেক্টর জেনারেলের নির্দেশনায় এবং প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে আমাদের এ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনার পর থেকে দিনাজপুর পুলিশ বিনিদ্র রজনী পার করছে। দিনের ২৪ ঘণ্টার পুরোটাই তারা তদন্ত কাজে ব্যয় করছেন। এর আগে শুক্রবার রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। রবিউল দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিজোড়া ইউনিয়নের বিজোড়া গ্রামের খতিব উদ্দীনের ছেলে। তিনি ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের মালি হিসেবে একসময় কাজ করত।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার মাস আগে ওয়াহিদা খানমের ব্যাগ থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরি হয়। সেই সময় উপজেলা কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রবিউলকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে সে তখন জিজ্ঞাসাবাদে চুরির কথা স্বীকার করেনি। পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকেই টাকা চুরিতে শনাক্ত করা হয়। শাস্তি হিসেবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ঘটনার প্রায় আট মাস আগে সে জেলা প্রশাসকের বাংলোয় ফরাশ পদে কাজ করত। সেখানে তার কাজ সন্তোষজনক না হওয়ায় ঘোড়াঘাট উপজেলায় বদলি করা হয়।
তবে রবিউলের আগে গত ৪ সেপ্টেম্বর আসাদুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবলীগ নেতা (বহিষ্কার) ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় র্যাবের কাছে দায় স্বীকার করে। গতকাল আসাদুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হয়।
এদিকে হামলার শিকার ইউএনও এখন অনেকটাই আশঙ্কামুক্ত। তার শরীরের অবশ অংশের উন্নতি হচ্ছে। তিনি অবশ ডান হাতের কনুই পর্যন্ত তুলতে ও নাড়তে পারছেন। পা নাড়াতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ধারা অব্যাহত আছে। তাকে অনেকটা শঙ্কামুক্ত বলা যায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
গতকাল ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন ও গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন। তিনি বলেন, তাকে অনেকটা আশঙ্কামুক্ত বলা যায়। তবে তিনি যেহেতু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সে কারণে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেজন্য আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এটা বলতে পারি, তার স্বাস্থ্যগত আর কোনো জটিলতা নেই। তার শুধু উন্নতির অবশিষ্ট শুধু ডান হাত ও পা। মোটামুটি তিনি শঙ্কামুক্ত।
মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বলেন, ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় যে অপারেশন করা হয়েছিল সেখানকার সেলাইগুলো কাটা হয়েছে। অপারেশনের জায়গাগুলো ভালো আছে। যেসব জায়গায় সেলাই কেটেছি সেসব স্থানও ভালো আছে। তিনি আরও বলেন, আমরা এখনও তার সব ধরনের খাবার অ্যালাউ করিনি। তিনি সলিড খাবার খাচ্ছেন। তার ব্লাড প্রেসার, সেন্স স্বাভাবিক রয়েছে। ইউএনও ওয়াহিদাকে এখনও বেডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে ডা. জাহেদ হোসেন বলেন, আরও দুয়েক দিন অবজারভেশনে রাখা হবে। আপাতত কেবিনে স্থানান্তর করছি না। কারণ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করলে অনেক বেশি ভিজিটর এখানে ভিড় করবেন। সে ক্ষেত্রে তার ইনফেকশনের শঙ্কা বেড়ে যায়। সেজন্য আমরা তার শারীরিক অবস্থা বুঝে আরও দুয়েক দিন পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব। তবে তার অবশ ডান হাতের কনুই পর্যন্ত অংশের উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নতির জন্য এখানে দিনে তিন-চারবার তার ফিজিওথেরাপি চলছে বলেও জানান মেডিকেল বোর্ডের প্রধান।
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে দুর্বৃত্তরা ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে তাকে ও তার বাবাকে কুপিয়ে আহত করে রেখে ফেলে যায়। পরে প্রতিবেশীরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে অবস্থার অবনতি হলে ইউএনও ওয়াহিদাকে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বিপি।এসএম
[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]