৪ মে ২০২৬

গাংনী হাসপাতালে মাত্র ৮ হাজার টাকার জন্য রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৮ পিএম
গাংনী হাসপাতালে মাত্র ৮ হাজার টাকার জন্য রোগীরা চরম ভোগান্তিতে

মেহেরপুর থেকে সংবাদদাতা: মাত্র ৮ হাজার টাকার একটি টায়ার অভাবে গ্যারেজবন্দি হয়ে আছে পরিবহনের একমাত্র অবলম্বন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স টি। এতে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীর স্বজনরা। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে গিয়ে আর্থিক ও সময়ের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েকগুণ।

‌সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স চালু হয় ২০১১ সালে। একটি টায়ার চলার ক্ষমতা ৫০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত। নতুন অ্যাম্বুলেন্সের সাথে পাওয়া নতুন টায়ার দিয়ে অদ্যবধি চলছে। যার চলার ক্ষমতা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অ্যাম্বুলেন্স চালক আব্দুল মালেক বলেন, অতিরিক্ত যে টায়ার যেটা ছিল তা লাগানো হয়েছে। গাড়িতে সব সময় একটি অতিরিক্ত টায়ার থাকা জরুরী। পথের মাঝে কোন সমস্যা হলে তা পরিবর্তন করা হয়। এই অতিরিক্ত টায়ার না থাকায় এম্বুলেন্স চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ২০ মে থেকে অ্যাম্বুলেন্সটি রাস্তায় চালানো বন্ধ আছে। এখন হাসপাতাল গ্যারেজে পড়ে রয়েছে। সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা হলেই একটি টাকার কেনা সম্ভব বলে জানান তিনি।

দেবীপুর ডিজিএমসি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে আমার মেয়ের পা ভেঙে গেছে। গান্ধী হাসপাতালের চিকিৎসকরা কুষ্টিয়ায় রেফার করেছেন। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছি। জানা গেছে, গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুষ্টিয়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন ভাড়া মাত্র ১ হাজার টাকা। বেসরকারি একটি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত। সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি বন্ধ থাকায় রোগীদের ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে আর্থিক ব্যয়। একটি সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স মেরামত খাতে টাকা জমা রয়েছে। তারপরও টায়ার কেনা হচ্ছে না। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুর রহমান। টায়ার নষ্ট হয় এম্বুলেন্সটির রেজিস্ট্রেশন নাম্বার এখনো হয়নি। ফলে অর্থ থাকা সত্ত্বেও এ অ্যাম্বুলেন্সের পেছনে সরকারি নিয়মে ব্যয় করা সম্ভব না। রেজিস্ট্রেশন এর জন্য সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করছি। অপরদিকে পুরাতন এম্বুলেন্স মেরামত চলছে। দ্রুত সেটি রাস্তায় নামানো যাবে। স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় সমাজের অনেক সমস্যাও সমাধান হয়। তাহলে মাত্র ৮ হাজার টাকা এই সমাজ থেকে উত্তোলন করা সম্ভব নয়? হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কি আর্থিক সহযোগিতা মিলবে না? এমন নানান প্রশ্ন রোগী সাধারণের।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি