৫ মে ২০২৬

ফরিদপুরে শীলাবৃষ্টিতে পাটের ব্যাপক ক্ষতি

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ফরিদপুরে শীলাবৃষ্টিতে পাটের ব্যাপক ক্ষতি

ফরিদপুর থেকে সংবাদদাতা: ফরিদপুরের বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলায় শিলাবৃষ্টিতে পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর সাথে ঝড়ে গেছে ক্ষেতের পাকা ধান ও তিল, মরিচ সহ অন্যান্য ফসল। এদু’টি উপজেলায় প্রায় ৬শ’ ৭৬ হেক্টর জমির পাট সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে বলে কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। শনিবার (৯মে) সন্ধার একটু আগে এ ঘটনা ঘটে। বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টিতে উপজেলার ২ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমির পাটের ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এরমধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে প্রায় ৪শ’ হেক্টর জমির পাট। এরমধ্যে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে প্রায় ৫৬৫ হেক্টর। এই উপজেলায় এবছর ১৪ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া ৭৩ হেক্টর জমির ধান, ১২ হেক্টর জমির মরিচ, সাড়ে ৯ হেক্টর জমির তিল ও ১৫ হেক্টর জমিতে রোপনকৃত শাকসব্জি বিনষ্ট হয়ে গেছে এই শিলাবৃষ্টিতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, একই সময়ে মধুখালী উপজেলার আশাপুর ও পৌরসভা সদরের কিছু এলাকার ১১১ হেক্টর জমির পাটের ক্ষেতের ফসল সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। বোয়ালমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, রোববার সকাল হতে দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। এরমধ্যে বোয়ালমারীর সাতৈর ও ঘোষপুর ইউনিয়নে ক্ষতির পরিমাণ বেশি। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। শেখর, চতুল ও দাদপুর ইউনিয়ন সহ বোয়ালমারী পৌর এলাকারও বিভিন্নস্থানে কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঘোষপুর গ্রামের আশুতোষ বিশ্বাস জানান, তিনি ১২ পাখি জমিতে পাটের আবাদ করেছিলেন। তুখোড় শিলাবৃষ্টিতে পুরো জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। সাতৈর ইউনিয়নের কাদিরদি গ্রামের পাট চাষী নুরুল ইসলাম মোল্যা বলেন, তিনি ৯ পাখি জমিতে পাটের চারা বুনেছিলেন। শিলাবৃষ্টিতে তার ক্ষেতের সব পাটের চারার মাথা ভেঙে গেছে। এখন এই ক্ষতি কিভাবে পুষিয়ে উঠবেন সেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সাতৈর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, আকস্মিক এ শিলাবৃষ্টিতে ক্ষেতের পাটগুলো মাঠের সাথে মিশে গেছে। পাটের চারার মাথা ভেঙে গেছে। অনেক জমির পাকা ধান ঝড়ে গাছগুলো মাটিতে শুয়ে গেছে। এছাড়া শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঝড়ো বাতাসে। সবমিলিয়ে তার ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদেরকে আমরা অন্য ফসল চাষের পরামর্শ দিয়েছি। সরকার কোন প্রণোদনা দিলে এসব ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের আগে সেই সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি