৪ মে ২০২৬

ফরিদপুরে পিতার দান অস্বীকার পুত্রের!

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ফরিদপুরে পিতার দান অস্বীকার পুত্রের!

বিপ্লব আহমেদ, ফরিদপুর থেকে: ফরিদপুরের চাঁদপুর ইউনিয়নের বঙ্গেশ্বরদীতে অবস্থিত সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দানকৃত এক খন্ড জমি ফেরত চাইছেন দাতার সন্তান। ওই সম্পত্তি তার পিতা স্কুলকে দান কিংবা বিক্রয় করেননি দাবি করে আদালতে একটি মামলাও ঠুকে দিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ওই এলাকায়। ফরিদপুরের পাশবর্তী বোয়ালমারী উপজেলার সীমানা সংলগ্ন বঙ্গেশ্বরদীতে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুলের মোট জমির পরিমাণ ৯৩ শতাংশ। এই জমি দেখিয়েই স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এমএ মান্নান জানান, পাঁচটি রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে এসব জমি কেনা হয়। এরমধ্যে স্কুল প্রতিষ্ঠাকালীন বছরেই পাশবর্তী জনৈক দুলাল সরকারের নিকট হতে ৩১ শতাংশ জমি রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে ক্রয় মিউটেশন করা হয়।

সরেজিমনে দেখা গেছে, ওই জমিটির একটি অংশ রয়েছে পরিত্যক্ত ডোবা। পিছনের অংশে আম বাগান। সম্প্রতি স্কুলের কমনরুমের স্বার্থে ডোবাটি ভরাটের সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। এদিকে, জমির মালিকানা বদলের দীর্ঘ ২৬ বছর পর দুলাল সরকারের ছেলে দিলীপ সরকার তার পিতার স্বাক্ষরিত ওই দলিলকে অস্বীকার করে জমিটি এখনো তাদেরই বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ডোবার ওই জমি তার পিতা বিক্রি করেননি। এব্যাপারে তিনি সদর সহাকারী জজ আদালতে একটি মামলা দাখিল করেছেন। এরমাঝে যেনো ওই ডোবা ভরাট না করে সেজন্য তিনি ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকের নিকট স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি দরখাস্ত করেন।

এ প্রেক্ষিতে গত সোমবার বিকেলে ফরিদপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ মোঃ সজিব ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তবে সেখানে ডোবা ভরাটের কোন আলামত না পেয়ে ফিরে যান ওই কর্মকর্তা। শাহ মোঃ সজিব বলেন, সরকারী বা খাস জমির স্বার্থ ছাড়া আমরা ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করিনা। বিষয়টি এখন আদালতের এখতেয়ারাধীন। এব্যাপারে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল খায়ের বলেন, দুলাল সরকার জীবিত থাকতে তার অনুরোধে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় একটি রেজুলেশন হয়েছিলো যে, ওই ডোবার জমি স্কুল আর আমবাগানের জমি তারা ভোগ করবেন। তার অবদানের বিষয়টি মাথায় রেখে এজন্য আমরা ওই আমবাগানের জমিতে যেতাম না। কিন্বতু এখনতো তার অবর্তমানে তার অবদানকেই অস্বীকার করছেন তার সন্তান। অথচ ২৬ বছর যাবত ওই জমির সরকারী খাজনাও দিয়ে আসছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ।

বিপি/কেজে

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

আপনি এগুলোও পছন্দ করতে পারেন

স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন


স্ট্রিট কিচেন-স্পাইস টাউন

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি