২২ জুন ২০২৬

ফরিদপুরে করোনাকে জয় করে ঘরে ফিরলেন আক্রান্ত প্রথম ৩ রোগী

Logo
বাংলা প্রেস প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ পিএম
ফরিদপুরে করোনাকে জয় করে ঘরে ফিরলেন আক্রান্ত প্রথম ৩ রোগী

ফরিদপুর থেকে সংবাদদাতা : ফরিদপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম তিনজন রোগীই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালের ছাড়পত্র নিয়ে তারা নিজ নিজ বাড়ি ফিরেন। এসময় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সগণ তাদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বিদায় জানান।

এসময় আক্রান্তদের গ্রামগুলো থেকে লকডাউনও প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরা এই তিনজন হলেন, নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ডাঙ্গি গ্রামের আব্দুল খলিলুর রহমান বেপারী (৬২), তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার বুলু (৪৮) ও বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের চন্দনী গ্রামের মো. শাহাবুদ্দিন (৪৭)। এদের মধ্যে খলিলুর রহমান গত ১৩ এপ্রিল সোমবার করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। তার সপ্তাহ খানেক আগে তিনি নারায়ণগঞ্জ হতে ফিরেন। ঢাকার আইসিসিআরে তার নমুনা পাঠানোর পর করোনা পজিটিভ আসে। তার সাথে করোনা আক্রান্ত হিসেবে সনাক্ত হন ঢাকা ফেরত আরো একজন। তাদেরকে ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর নগরকান্দা উপজেলা লকডাউন করা হয়।

এর চারদিন পর শুক্রবার করোনা ভাইরাস পরীক্ষার পর পজিটিভ আসে খলিলুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন আক্তারের। ওইদিনেই বোয়ালমারীর শাহাবুদ্দিনের করোনা পরীক্ষার তার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদেরও ফমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই বোয়ালমারীর চন্দনা গ্রামটি লকডাউন করে স্থানীয় প্রশাসন। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান বুলু জানান, দু’দফায় তাদের করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পর আমরা তাদের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত হই।

এরপরই তাদেরকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। গত প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ করার পর হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার সময়য় ডাক্তার ও নার্সদের ফুলের অভিনন্দন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রোগীরা। এদের একজন খলিলুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আসার পর থেকে অনেক ভয়ে ছিলাম। আমার পরে যখন বাড়ির আরেকজনও করোনা আক্রান্ত হলো তখন ভয় আরো বেড়ে গিয়েছিলো। তিনি বলেন, শরীরে যখন জ্বর বেড়ে যেতো তখন খুব কষ্ট পেতাম।

তবে আল্লাহর রহমতে খারাপ কিছু হয়নি। খলিলুর রহমানের স্ত্রী জেসমিন আক্তার বলেন, হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সেরা কখনো আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে নাই। এটাই আমাদের বড় ভরসা ছিলো। তারাও আমাদের সেবা করতে যেয়ে অনেক কষ্ট করেছেন। সময়মতো খাবার খেতে পারেননি। বাড়িতে যেতে পারেননি। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুন। ডা. মাহফুজুর রহমান বুলু ছাড়াও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কর্মকর্তা ডা. আসাদুল হক সুমন, ডা. কামরুজ্জামান, সিনিয়র স্টাফ নার্স আফসানা আক্তার, কাকলি খাতুন, মর্জিনা খাতুন, লাভলী আক্তার, রেহেনা ও ফারজানা সুস্থ হয়ে পড়া তিনজন রোগীকে তাদের বিদায় মূহুর্তে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর ফমেকের ডেডিকেটেড হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড থেকে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার এই খবরে সংশ্লিষ্টদের মাঝেও স্বস্তি ফিরে আসে।

এ ঘটনাকে তাদের জন্য বড় কেস স্টাডি হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান জানান, বর্তমানে সেখানে দু’জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। আর করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ৫ জন।

বিপি/আর এল

[বাংলা প্রেস হলো মুক্ত চিন্তার একটি বৈশ্বিক প্রচার মাধ্যম। এটি স্বাধীনচেতা মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সংবাদ, বিশ্লেষণ ও মন্তব্য সরবরাহ করে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, যা আজকের দিনে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।]

মন্তব্য (0)

আলোচনায় যোগ দিন

আপনার মতামত শেয়ার করতে এবং অন্যান্য পাঠকদের সাথে যুক্ত হতে দয়া করে লগইন করুন।

এখনো কোন মন্তব্য নেই

Be the first to share your thoughts on this article!

সঙ্গীত একাডেমি


সঙ্গীত একাডেমি